ওঙ্কার ডেস্ক: ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্প্রতি আকাশ থেকে কালচে রঙের অস্বাভাবিক বৃষ্টি নামার ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বহু বাসিন্দা দাবি করেছেন, বৃষ্টির জল স্বাভাবিক স্বচ্ছ না হয়ে কালো বা ঘন ধোঁয়াটে রঙের ছিল। কোথাও কোথাও সেই জল গাড়ি, বাড়ির ছাদ ও রাস্তায় পড়ে কালো দাগ ফেলেছে। এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, বৃষ্টি নামার আগে আকাশে দীর্ঘ সময় ধরে ঘন কালো ধোঁয়ার স্তর ভেসে থাকতে দেখা যায়। পরে বৃষ্টি শুরু হতেই সেই ধোঁয়া ও বাতাসে ছড়িয়ে থাকা কণাগুলি জলের সঙ্গে মিশে পড়তে শুরু করে। ফলে বৃষ্টির জল অস্বাভাবিকভাবে কালচে হয়ে যায়। অনেকেই জানান, বৃষ্টির ফোঁটা পড়ার পর গাড়ির কাচ, রাস্তা কিংবা বাড়ির দেওয়ালে কালো ময়লা জমে থাকতে দেখা যায়।
পরিবেশবিদদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে বিভিন্ন তেলভান্ডার, জ্বালানি সংরক্ষণাগার বা শিল্পাঞ্চলে আগুন লাগার ফলে বিপুল পরিমাণ ধোঁয়া, ছাই ও তেলজাত কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে। এই দূষিত কণাগুলি বাতাসে ভেসে মেঘের সঙ্গে মিশে গেলে বৃষ্টি নামার সময় তা জলের সঙ্গে নীচে পড়ে। সেই কারণেই বৃষ্টির জল কালচে বা তেলের মতো আঠালো হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেল বা জ্বালানি পুড়ে গেলে যে সূক্ষ্ম কণা, কার্বন, সালফার ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ তৈরি হয়, সেগুলি বাতাসে জমা হয়ে থাকলে বৃষ্টির সময় তা মাটিতে নেমে আসে। ফলে বৃষ্টির রঙ ও গঠন স্বাভাবিক থাকে না। এর ফলে পরিবেশের উপর যেমন প্রভাব পড়ে, তেমনই মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
চিকিৎসকদের আশঙ্কা, এই ধরনের দূষিত বৃষ্টির সংস্পর্শে এলে ত্বকের জ্বালা, চোখে সমস্যা, শ্বাসকষ্ট বা অ্যালার্জির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং শ্বাসযন্ত্রের রোগে আক্রান্তদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তাই অনেক এলাকায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহু ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে গাড়ির গায়ে কিংবা রাস্তায় কালো দাগ পড়ে রয়েছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আকাশে জমে থাকা ধোঁয়া ও দূষণের মাত্রা কমে গেলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে।
