ওঙ্কার ডেস্ক: পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক সীমান্ত সংঘর্ষ ঘিরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পরপর বিমান হামলা, ড্রোন আক্রমণ এবং গোলাবর্ষণের জেরে দুই দেশের সম্পর্ক কার্যত যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে গড়িয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মধ্যস্থতার প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে এসেছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে তারা প্রস্তুত। কিন্তু বর্তমানে ইরানের অবস্থা খুব একটা ইতিবাচকপুর্ণ নয়। ইরানের অভ্যন্তরীণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের চাপে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যথেষ্ট উত্তেজনাপুর্ণ। এই অবস্থায় পাকিস্তান এবং আফাগানিস্তান যুদ্ধে মধ্যস্থতা করার কথা প্রকাশ্য আসতেই শোরগোল পরে গেছে।
পাকিস্তানের তরফে অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ডে সক্রিয় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালাচ্ছে। এর জবাবে পাকিস্তান একাধিক স্থানে বিমান হামলা চালায় বলে জানা গিয়েছে। আফগানিস্তানের পক্ষ থেকেও পাল্টা ড্রোন ও আর্টিলারি হামলার খবর মিলেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বহু পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরছাড়া হয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে খবর।
এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহেই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ইসলামাবাদ ও কাবুল—উভয় দেশের সঙ্গে ইরানের ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে প্রতিবেশী অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা তেহরানের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাসের সময় সংঘর্ষ নয়, সংযম ও সংলাপই হওয়া উচিত অগ্রাধিকার। দুই দেশের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দূর করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার জন্য ইরান সব রকম সহায়তা করতে প্রস্তুত।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তান—দুই দেশই ইরানের প্রতিবেশী। সীমান্ত অস্থির হলে তার প্রভাব পড়তে পারে গোটা পশ্চিম ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে। ইতিমধ্যে অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তিও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে এবং সংযমের আহ্বান জানাচ্ছে।
যদিও এখনও পর্যন্ত পাকিস্তান বা আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে ইরানের মধ্যস্থতার প্রস্তাব নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবু কূটনৈতিক তৎপরতা যে জোরদার হচ্ছে তা স্পষ্ট। বিশেষজ্ঞদের মতে, অবিলম্বে আলোচনার পথে না ফিরলে সংঘর্ষ আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক মহলে এখন একটাই প্রত্যাশা দুই দেশ দ্রুত উত্তেজনা প্রশমিত করে সংলাপের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের পথে এগোবে।
