স্পোর্টস রিপোর্টার : আইএসএলে নিজেদের তিন নম্বর ম্যাচে। প্রথম ২ ম্যাচে যেখানে অনায়াস জয় পেয়েছে সবুজ মেরুন, সেখানে ভারতীয় ফুটবলারদের নিয়ে গড়া মহমেডান হেরেছে ২টি ম্যাচেই। তৃতীয় প্রধানের মর্যাদা ইতিমধ্যেই খুইয়েছে। মহমেডানের সঙ্গে মোহনবাগান বা ইস্টবেঙ্গলের মধ্যে ম্যাচে আগের সেই ডার্বির উত্তেজনা বা উন্মাদনা কিছুই নেই। একটা সাধারণ ম্যাচ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বরং এবার আইএসএল বাকি ম্যাচে পারফরমেন্সে উন্নতি ঘটাতে না পারলে মহমেডানের অবনমন বাঁচানো শক্ত। এমন একটা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে বাগানের হেড স্যার সের্জিও লোবেরার মুখে সমীহের সুর। চান না পচা শামুকে পা কাটুক। বলেই দিলেন, মহমেডানের শক্তি যেমনই থাক, তাদের হাল্কা ভাবে নিচ্ছেন না।
মহমেডানের মত দুর্বল প্রতিপক্ষকে এত বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার কারণ কি ? এই প্রশ্নে লোবেরার উত্তর, ‘ আমি কোনও প্রতিপক্ষকেই দুর্বল ভাবি না। মহমেডানকেও তাই খাটো করে দেখছি না। চাই না দলের ফুটবলারদের মধ্যে বিন্দুমাত্র আলগাভাব আসুক। প্রথম দু’ম্যাচে যে ছন্দে ফুটবল খেলেছে দল, সেটা মহমেডান ম্যাচেও তুলে ধরতে হবে। ৩ পয়েন্ট পেতে। নিজেদের খেলায় শিথিলতা এলে সমস্যা হতে পারে জয় পেতে। সংক্ষিপ্ত ১৩ ম্যাচের লিগে সেটা প্রভাব ফেলবে। আর মহমেডানে কারা খেলছে বড় কথা নয়, যারা খেলছে, তারা নিজেদের মাঠে উজাড় করে দিচ্ছে। জামশেদপুর দলটা এবার দেশি, বিদেশি মিলিয়ে খুব শক্তিশালী। তবু মহমেডানকে হারাতে ওদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। মহমেডান ফুটবলাররা আমাদের বিরুদ্ধে জান দিয়ে লড়লে অবাক হওয়ার কিছু নেই।’
মহমেডানে কোনও বিদেশি ফুটবলার নেই। সেখানে আপনার দল দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে প্রচন্ড শক্তিশালী। প্রতি পজিশনে সমান দক্ষতা সম্পন্ন ফুটবলার। এটা কি বাড়তি সুবিধা নয় মহমেডানের মতো দলের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয় পেতে ? তাছাড়া প্রথম ২ ম্যাচে জয়ের পর মহমেডানের শক্তি বুঝে আরও কিছু ফুটবলারকে দেখে নিতে প্রথম একাদশে বদল আনবেন কি ? রোটেশন পদ্ধতি প্রয়োগ করে ? লোবেরার স্পষ্ট জবাব, ‘ মহমেডানের দেশি ফুটবলারদের খারাপ মনে করি না। বরং প্রথম ২ ম্যাচে ওদের খেলা দেখেছি। বেশ লড়াকু। ওরা আইএসএলের মতো বড় মঞ্চটা বেছে নিয়েছে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের। অন্য দলের ম্যানেজমেন্ট, কর্তা, কোচের নজর কাড়তে। আর লক্ষ্য যেখানে জেতা, সেখানে সেরা একাদশটাই আমি নামাব। সংক্ষিপ্ত লিগে পরীক্ষা নিরীক্ষার জায়গা নেই। বরং দলে ঘন ঘন বদল আনলে খেলায় ছন্দপতন ঘটা অস্বাভাবিক নয়।’
প্রথম ম্যাচের আগে লোবেরা জানিয়েছিলেন, খেতাব জেতার দৌড়ে থাকতে ম্যাচ জেতার পাশাপাশি বেশি গোল পাওয়ার চেষ্টা করতে হবে, গোল পার্থক্যের বিষয়টা মাথায় রেখে। মহমেডান ম্যাচে সেই গোল বাড়ানোর কাজটা কিছুটা হলেও এগিয়ে রাখবেন? লোবেরার বিনয়ী উত্তর, মাঠে নামার আগে খেলার গতিপ্রকৃতি না বুঝে গোল বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়। এটুকু বলতে পারি, ভাল খেললে জয় আসবে। আর গোলের সুযোগ যথেষ্ট তৈরি হয়েছে প্রথম ২ ম্যাচে। দল ভাল খেলেছে। তবে এটা ঠিক, এক গোলে এগিয়ে থাকাটা কোনওসময়ই নিরাপদ ব্যাপার নয়। ম্যাচটা সম্পূর্ণ নিজেদের মুঠোয় নিতে দ্বিতীয় বা তৃতীয় গোলটা দ্রুত তুলে নেওয়া জরুরি। সেই চেষ্টা মহমেডান ম্যাচে করতে হবে ফুটবলারদের।’
