স্পোর্টস রিপোর্টার : গত ম্যাচে বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে না জেতার আক্ষেপ যাচ্ছে না মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট কোচ সের্জিও লোবেরার। শুক্রবার আইএসএলের ম্যাচে ঘরের মাঠে যুবভারতীতে মুম্বই সিটির বিরুদ্ধে ৩ পয়েন্ট তুলে সেই পয়েন্ট খোয়ানোটা পুষিয়ে নিতে চান তিনি। ইন্টারন্যাশানাল ব্রেকের আগে লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকতে মুম্বই ম্যাচ জেতা জরুরি বলে জানালেন লোবেরা।
বেঙ্গালুরু ম্যাচে পয়েন্ট নষ্টের হ্যাংওভার কাটিয়ে ফুরফুরে মেজাজেই আছে দল। বাগানপ্রেমীদের জন্য সুখবর, কোচ লোবেরা জানালেন, ফরোয়ার্ড রবসন রবিনহো ও ডিফেন্ডার আলবার্তো রডড্রিগেজ চোট সারিয়ে মাঠে নামতে তৈরি।
বেঙ্গালুরু ম্যাচের পর লোবেরা বলেছিলেন, এক পয়েন্ট পাওয়ায় খুশি নন, বরং তিনি মনে করেন ২ পয়েন্ট হাতাছাড়া হল। সেটা মাথায় রেখেই মুম্বই ম্যাচের আগে লোবেরা বলেন, ‘ আমি অন্যদের থেকে একটু আলাদা। অনেকে ১ পয়েন্ট পেলে খুশি হন। কিন্তু আমি সেই দলে পড়ি না। আমি সেটাকে দেখি ২ পয়েন্ট হারানো। মুম্বই ভাল দল। ওদের একটা লড়াইয়ের ইতিহাস আছে। সঙ্গে সাফল্য। তাই মোকাবিলাটা কঠিন। ফুটবলাররা সেটা জানে। ঘরের মাঠের সমর্থকদের সামনে ৩ পয়েন্ট পেতে ঝাঁপাবে ওরা। পুরো পয়েন্ট পাওয়াটা দরকার ইন্টারন্যাশানাল ব্রেকের আগে লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকতে।’
ইন্টারন্যাশানাল ব্রেকের পরই ৪ এপ্রিল জামশেদপুরের বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে মোহনবাগান। জামশেদপুর খেতাবী লড়াইয়ে তাড়া করছে সবুজ মেরুনকে। সেজন্যই কি মুম্বই ম্যাচ জিততে বেশি মরিয়া? লোবেরার উত্তর, ‘ জামশেদপুর ম্যাচ নিয়ে এখন ভাবছি না। আমার ফোকাস এখন শুধুই মুম্বই ম্যাচের ৩ পয়েন্ট।’
মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে মোহনবাগানের ম্যাচ জেতার খতিয়ান ভাল নয়। একসময় আপনিও মুম্বই কোচ হিসেবে মোহনবাগানকে হারিয়েছিলেন। এবার সবুজ মেরুনের কোচ হিসেবে সেই ফলটা কি ঘুরিয়ে দিতে পারবেন? লোবেরার মতে, ‘ অতীত আঁকড়ে থেকে লাভ নেই। মুম্বইয়ের কোচের ভূমিকায় অনেক ভাল সময় কাটিয়েছি। ট্রফি জিতেছি। এখন আমি মোহনবাগান কোচ। সেই ভূমিকায় ম্যাচ ও ট্রফি জেতাটাই লক্ষ্য সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে। মুম্বই দলটাকে গুরুত্ব দিতেই হবে। ওদের দলে দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে ভাল ফুটবলার আছে। জনি কাউকোর মতো বিদেশি আছে, যে মোহনবাগানকে বড় সাফল্য পেতে সাহায্য করেছিল। বেঙ্গালুরু ম্যাচে গোলের সুযোগ আসেনি এমন নয়। বরং দুটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ হাতছাড়া হয়, প্রতিপক্ষ ১০ জনে মিলে রক্ষণে ভিড় জমিয়ে খেলা সত্ত্বেও দ্বিতীয়ার্ধের অধিকাংশ সময়। মুম্বইয়ের খেলার ধরনটা আলাদা। সেটা বুঝেই নিজেদের দখলে বেশি বল রেখে খেলতে হবে জয়ের প্রয়োজনীয় গোল তুলে নিতে।’
দু’মরশুম আগে মুম্বই জার্সিতে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিলেন আপুইয়া। এখন তিনি মোহনবাগান মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা। মুম্বইয়ের মুখোমুখি হওয়ার আগে আপুইয়া বলেই দিলেন, দু’মরশুম সবুজ মেরুন জার্সিতে খেলা হয়ে গেছে। তাই মুম্বই নিয়ে বাড়তি কোনও আবেগ নেই। ফুটবলারদের জীবন এমনই। দল বদলায়। নতুন দলে নিজেকে ফিট করে নিতে হয়। নিয়েছেনও। কোচ বদলায়। তাঁদের দর্শনের সঙ্গে নিজের খেলার ধরনও বদলে যায়। যেমন বদলেছে কোচ মোলিনার সময় থেকে এখন লোবেরার কোচিংয়ে। আগের কোচ বল পায়ে রাখতে বলতেন কম, আক্রমণাত্মক খেলালেও। সেখানে আক্রমণাত্মক কৌশলের মাঝেও লোবেরা বল পজেশনের ওপর বেশি জোর দেন।এদিকে ইন্টারকাশীর বিরুদ্ধে গত ম্যাচে জয় পেয়েছে মুম্বই সিটি এফসি। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ম্যাচটা হওয়ায় কিশোরভারতী ক্রীড়াঙ্গনে দর্শকশূণ্য মাঠে ম্যাচটা খেলেছিল মুম্বই। শুক্রবার তারা খেলবে যুবভারতীতে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ সমর্থকদের চিৎকারের মাঝে। আর এই কারণে ৫দিন কলকাতায় কাটিয়ে ফেললেও সবুজ মেরুন বাহিনীকে বাড়তি সমীহ করছেন মুম্বই সিটির চিফ কোচ পিটার ক্র্যালটকি।
প্রতিপক্ষ মোহনবাগান তাঁর কাছে অচেনা দল নয়। বরং ক্র্যাযটকির মতে, ‘ মোহনবাগানের এই দলটা যথেষ্ট শক্তিশালী। ওদের দলে বদল খুব কমই হয়েছে। বরং নতুন সংযোজনও বেশ ভাল। তাই গুরুত্ব তো দিতেই হবে। বিশেষ করে ম্যাচটা যেখানে ওদের মাঠে। গ্যালারির সমর্থন ওদের সঙ্গে থাকবে। সেখানে আমার দল গতবারের তুলনায় শক্তি কমেছে বা বেড়েছে, এটা বলতে চাই না। বরং বলব, দলটা ভিন্ন। তাতে কোনও অসুবিধা নেই। মোহনবাগানের শক্তি মাথায় রেখেই জেতার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করবে আমার ফুটবলাররা।’
মূলত আক্রমণাত্মক ফুটবলে বিশ্বাসী মুম্বইয়ের হেড স্যার ক্র্যাযটকি। তবে মোহনবাগানের মুখোমুখি হওয়ার আগে তাঁর মুখে শোনা গেল একটু অন্যরকম সুর। বললেন, ‘ গোল পেতে গেলে আক্রমণাত্মক ফুটবল তো খেলতেই হবে। কিন্তু তার মানে ডিফেন্স আলগা রেখে নয়। আর বিশেষ করে মোগনবাগানের বিরুদ্ধে দলের বিরুদ্ধে, যাদের আক্রমণভাগে ও মাঝমাঠে গোল করার একাধিক ফুটবলার আছে।’
চোটের জন্য ব্রেন্ডনকে পাবেন না ক্র্যােটকি। তিনি এখনও রিহ্যাবে রয়েছেন। ঘরের ফুটবলারদের পাশাপাশি তাঁর ভরসা ৪ বিদেশি নুনো রেইস, জনি কাউকো, জর্জ ওর্তিজ, পেরিরা দিয়াজ। সদ্য যোগ দিলেও ওর্তিজ ফিট খেলার জন্য।
নুনো রেইস মোহনবাগান ম্যাচকে বাড়তি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছেন লিগ টেবিলে ভাল জায়গায় থাকতে। বললেন, ‘ জানি মোহনবাগান ঘরের মাঠে সবসময়ই ফেবারিট সমর্থকদের জন্য। এই দলে আমি আগে খেলেছি। তাই ওদের শক্তি ও দুর্লবতা দুটোই জানা। তবে নিজেরা সেরা দিতে পারলে ৩ পয়েন্ট পাওয়া অবশ্যই সম্ভব।’ মোহনবাগানের আক্রমণভাগে ৩জন অস্ট্রেলিয়ান বিশ্বকাপার ম্যাকলারেন, কামিংস ও দিমিত্রি থাকলেও ভীত নন নুনো রেইস। জানালেন, কোচের কৌশল মেনে খেললে ওদের আটকে দিয়ে অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে ৩ পয়েন্ট নিয়ে মুম্বই ফেরা যাবে। সেই লক্ষ্য নিয়ে একটা দল হিসেবে মাঠে লড়বেন।
