ওঙ্কার ডেস্ক: ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মতিথি উপলক্ষে দেশজুড়ে পালিত হল জন্মাষ্টমী। এই দিনে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সন্ন্যাসী ও সাধুসমাজ। তাঁদের আহ্বান, শ্রীকৃষ্ণের দেখানো পথে চলেই সমাজে প্রেম, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির সেতু গড়ে তোলা সম্ভব। ভাদ্রপদ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের দিনকে ঘিরে প্রতিবছরই উৎসবমুখর হয়ে ওঠে সারা দেশ। ভক্তি, ন্যায় ও প্রেমের জয়গাথা হিসেবেই এই দিনকে মানা হয় হিন্দু ধর্মাচরণে।
মথুরা, শ্রীকৃষ্ণের জন্মভূমি, সেজে উঠেছে আড়ম্বর ও গম্ভীর ভক্তিভাবনায়। বৃন্দাবনের শ্রী রামকৃষ্ণ ইন্টারন্যাশনাল জানকী বল্লভ মন্দিরের সভাপতি স্বামী মহেন্দ্র দাস মহারাজ আইএএনএস-কে বলেন, “সমস্ত দেশবাসীকে জন্মাষ্টমীর আন্তরিক শুভেচ্ছা। ভগবান শ্রীকৃষ্ণই পরম ঈশ্বর। আজ সমাজে যদি ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও ভক্তির আবহ বিরাজমান থাকে, তার মূল কৃতিত্ব শ্রীকৃষ্ণের। বৃন্দাবনে জন্মাষ্টমীর উৎসব আজ সত্যিই দেবোৎসবের রূপ নিয়েছে। ব্যাংকেবিহারী মন্দির থেকে জানকী বল্লভ মন্দির সর্বত্রই আধ্যাত্মিক আবহ বিরাজ করছে”।
তিনি আরও জানান, “মথুরার জন্মভূমি মন্দিরেও জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব চলছে। এই আনন্দোৎসব সকলের। মহাঅভিষেক অনুষ্ঠানে শ্রীকৃষ্ণকে স্নান করানো হবে সাত রকম রস ও পঞ্চামৃত দিয়ে। তার পরেই ভগবানকে নিবেদন করা হবে মহাপ্রসাদ।” মথুরার শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি মন্দির আলো ও ফুলে সজ্জিত হয়ে ভক্তদের ভিড়ে মুখর। হাজার হাজার মানুষ প্রণামার্থে ভিড় জমাচ্ছেন। জন্মভূমি কমপ্লেক্সের ভেতরে ভাগবত ভবন লীলা মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে রাধাকৃষ্ণ লীলা, সঙ্গে থাকছে নানাবিধ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রায় ৪০০ শিল্পী ভক্তি-সঙ্গীত, নৃত্য ও নাট্যকলার মাধ্যমে শ্রীকৃষ্ণের মহিমা তুলে ধরবেন মন্দির প্রাঙ্গণ ও শহরের বিভিন্ন চত্বরে। এই আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ ব্রজ তীর্থ বিকাশ পরিষদ ও পর্যটন দপ্তর।
বৃন্দাবনও সেজে উঠেছে জন্মাষ্টমীর আনন্দে। সর্বত্র ভেসে আসছে ‘হরে কৃষ্ণ’ ধ্বনি। মাধুবন আশ্রমের সভাপতি পরমানন্দ দাস মহারাজ আইএএনএস-কে জানান, “আপনাদের সকলকে জন্মাষ্টমীর আন্তরিক শুভেচ্ছা। মাধুবন আশ্রমে মহোৎসবের আবহ। জন্মাষ্টমী আমাদের সকল সনাতনীর কাছে অতি পবিত্র দিন, কারণ এই দিনেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ”।
দেশজুড়েই একই আবহ মন্দিরগুলি ফুলে-আলোয় সজ্জিত, ঘরে ঘরে সাজসজ্জা। নিয়ম অনুযায়ী অনেক ভক্ত উপবাস থেকে মন্দিরে গিয়ে প্রণাম করেন, দুধ-দই-মাখন-ঘি থেকে তৈরি নানা মিষ্টি নিবেদন করেন ভগবানকে। চলে ভজন-গান, ধর্মগ্রন্থ পাঠ, ভাগবত পুরাণ থেকে শ্রীকৃষ্ণলীলা পরিবেশনা।
