ওঙ্কার ডেস্ক : কালী যাচ্ছেন প্রিজন ভ্যানে, তাও আবার ভাঙা অবস্থায়। কাকদ্বীপে কালিপুজোর পরদিনই এমন দৃশ্য চাক্ষুষ করলেন এলাকার মানুষ। কালীমূর্তি ভাঙার অভিযোগ উঠল বিজেপির উপর। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার রাতে। জানা যায়, এই ঘটনায় জড়িত নারায়ণ হালদার নামে এক বিজেপি কর্মী। তিনি স্বীকারও করে নেন যে মদ্যপ অবস্থায় এই বাজে কাজটি করে ফেলেছেন।
বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই যা বুমেরাং হয়ে ফিরল বিজেপির দিকে। তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করা হয় এই ঘটনায় ‘সাম্প্রদায়িক বিষ’ ছড়াচ্ছে বিজেপি। এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেছেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বিজেপি এটায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রং চড়াল। শেষে দেখা গেল বিজেপির যুব মোর্চার নারায়ণ হালদার নামে একজন। এই ঘটনা অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় সে ঘটিয়েছে নাকি ঘটানো হয়েছে সেটা দেখা হবে। বিজেপির তরফে কেউ এ জিনিস ঘটিয়েছে কি না সেটাও দেখতে হবে।”
মঙ্গলবার গভীর রাতে কাকদ্বীপের হারউড পয়েন্ট কোস্টাল থানার সূর্যনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর চন্দননগর নস্করপাড়ায় কালীমূর্তি ভাঙাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পুজো কমিটির কর্তারা ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। ওই পূজা কমিটির সদ্যসরা জানায়, “প্রতিমা বিসর্জনের পর তারা এই বিষয় নিয়ে লিখিত আবেদন পেশ করবেন পুলিশের কাছে। তাঁরা চান মূল দোষীকে শাস্তি দিতে।”
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আস্তেই কাতারে কাতারে মানুষ জড় হয়। ভাঙা মূর্তি নিয়ে ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর অবরোধে বসে। স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা যায়, ওই অবরোধে যুক্ত ছিল বিজেপির সমর্থক ও কর্মীরা। এলাকার কেউ কেউ অভিযোগ করেন, ইচ্ছে করেই বিজেপি এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে মানুষের মধ্যে ঝামেলার সৃষ্টি করছে। যার ফলে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল, এমনকি অ্যাম্বুল্যান্সও পেরতে দেওয়া হয়না। অবরোধকারীরা লাঠি ও ইটপাটকেল নিয়ে পুলিশের উপর হামলা করে করে বলে অভিযোগ। এক পুলিশ কর্মী হত হন। পুলিশের বক্তব্য, “তখন কালীমায়ের সম্মান ও পবিত্রতা রক্ষাকেই আমরা সবচেয়ে প্রাধান্য দিই। দ্রুত অ্যাকশন নিয়ে ইটবৃষ্টি থেকে বাঁচিয়ে কালীমূর্তি নিরাপদভাবে প্রিজন ভ্যানে তুলে নেওয়া হয়। কারণ, সেই সময় অন্য কোনও সুরক্ষিত গাড়ি আশপাশে ছিল না। আমরা যা করেছি, মা কালীর সম্মান ও পবিত্রতা রক্ষা করে শান্তি বজায় রাখার জন্য করেছি। এই নিয়ে অযথা বিভ্রান্তি ছড়াবেন না। গুজবে কান দেবেন না।”
সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত একজনকেই ধরা গেছে। যিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি মদ্যপ অবস্থায় এই কাজ করেছেন। ধৃতকে এদিন কাকদ্বীপ আদালতে তোলা হয় এবং বিচারকের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়। মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার বলেন, সারা বাংলায় যেভাবে মিথ্যে প্রচার করে বিজেপি সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করছে কাকদ্বীপেও সেই একই চেষ্টা হয়েছিল।
