বিপ্লব দাশ : এসএসসি কাণ্ডে চাকরিহারা গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি শিক্ষাকর্মীদের জন্য ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। এই নিয়ে বিরোধ দেখা দেয় ২০১৬-র এসএসসি প্যানেলের ওয়েটিং লিস্টে থাকা চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে। তাদের একাংশের অসন্তোষ আদলতে পৌঁছোয়। প্রশ্ন ওঠে, যাঁদের জন্য তাঁরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হলেন তাঁরা, তাঁদেরই খুশি করতে রাজ্য সরকারের ভাতা দেওয়ার স্বার্থকতা কোথায় !
হাইকোর্টে এই মামলা চলাকালীন বিচারপতি অমৃতা সিনহা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেন। যার মধ্যে, এক, কিসের ভিত্তিতে এই ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল ? দুই, মাসে ২০ হাজার কিংবা ২৫ টাকা ভাতা দেওয়ার পরিমান কে নির্ধারণ করল ? তিন, কেন ওরা বসে বসে জনগনের টাকা পাবেন ? এইসব প্রশ্নের যথার্থ কোনো উত্তর মেলেনি। পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতিতে যুক্তি একটাই যেমন করেই হোক ভোটারদের মুখ বন্ধ রাখা। হয়তো এক্ষেত্রেও এমন একটা কৌশল কাজ করে থকতে পারে। যাদিও এসএসসি কাণ্ডের অসংখ্য প্রশ্নের কোনো উত্তর এখনও মেলেনি। মিলবে বলেও মনে হয় না। যদিও তা সকলের কাছে ভীষণ ভাবেই পরিষ্কার।
তবে গ্রুপ-সি গ্রুপ-ডি ভাতা মামলায় আবেদনকারীদের প্রশ্নের একটা উত্তর দিয়েছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা, তা হল, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্য সরকারেরই ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্তের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ। শুধু এই নয়, কী কারণে রাজ্য সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিল তা নিয়ে অবিলম্বে তাঁর আদালতে হলফনামা জমা দিতেও বলা হয়েছে। ঠিক একই ভাবে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে ছিলেন চাকরিহারা শিক্ষকদের একাংশ। যা এখন হাইকোর্টের অধীন।
বিষয়টা হল সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে বারবার যদি আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়, তাহলে দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে বিচার ব্যবস্থাই মুখ্য হয়ে ওঠে। সেখানে রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা অচল হয়ে পড়ে। যা গণতন্ত্রের পক্ষে সুখকর নয়। কিন্তু সাম্প্রতিকলালে, কেন্দ্র হোক কিংবা রাজ্য, নানান ইস্যুতে তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধ মেটাতে আদালতকে মাথা ঘামাতে হচ্ছে। এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্তই ভুল প্রমাণিত হচ্ছে। এটা কি রাজনীতিকদের বিচক্ষণহীনতাকে স্পষ্ট করছে না ? কেন এই বিরোধ উঠে আসছে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ? তাঁরা কি সরকারের উপর কোনো না কোন ভাবে নির্ভরতা হারাচ্ছেন ? উপসর্গটি গনতন্ত্রের পক্ষে খুবই মারাত্মক। প্রশাসনিক কাজে রাজনীতিকদের অক্ষমতাই কি এর কারণ ? রাজনীতি সবসময় শাসন ক্ষমতামুখী। কিন্তু শাসন ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে যদি দুর্বলতা থাকে তাহলে তা দেশের পক্ষে সমূহ ক্ষতিকর। এ দেশে কেন্দ্র, রাজ্য উভয় ক্ষেত্রেই সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে এই অক্ষমতাই মাথাচাড়া দিচ্ছে। নাহলে, বিচার ব্যবস্থাকে দেশের নীতি নির্ধারণে নাক গলাতে হত না।
