ওঙ্কার ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দাদের। হেস্টিংসের দহিঘাটে গড়ে উঠছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি নতুন শ্মশান। এই প্রকল্পে থাকবে পাঁচটি কাঠের চুল্লি এবং দুটি পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক চুল্লি। কলকাতা পুরসভা ও একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া এই কাজ শেষ হলে শহরের শ্মশান অবকাঠামোয় যুক্ত হবে এক নতুন অধ্যায়।
শহরের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মৃতদেহ সৎকারের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। কেওড়াতলা ও নিমতলার মতো পুরনো শ্মশানগুলোতে প্রতিদিনই চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। একাধিকবার দেখা গেছে, সৎকারের জন্য পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সেই চাপ কমাতেই এই নতুন উদ্যোগ। এই শ্মশান নির্মানের এবং কাজকর্মের দায়িত্ব নেওয়া স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটি ইতিমধ্যেই নিমতলা ও কেওড়াতলার রক্ষণাবেক্ষণ করছে।
পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্তা জানান, “শ্মশানগুলোর ওপর চাপ এখন অস্বাভাবিক। নতুন শ্মশান তৈরি হলে চাপ অনেকটাই কমবে। বৈদ্যুতিক চুল্লির ব্যবহার পরিবেশবান্ধব হওয়ার পাশাপাশি সৎকার প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করবে।”উল্লেখ্য, দহিঘাটে প্রায় ৯২ কাঠা জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ ৩০ বছরের জন্য জমিটি ইজারা দিয়েছে পুরসভাকে। খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। নির্মাণ শেষ হলে একই সঙ্গে সাতটি মৃতদেহ সৎকারের ব্যবস্থা থাকবে।
পুরসভার ন’নম্বর বোরোর চেয়ারপার্সন দেবলীনা বিশ্বাস বলেন, “বড় গঙ্গার ধারেই এই শ্মশান গড়ে উঠবে। খুব শিগগিরই নির্মাণকাজ শুরু হবে।”পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। চালুর পর পরিচালনা থাকবে পুরসভার হাতে, তবে দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। বর্তমানে কলকাতায় পুরসভার অধীনে সাতটি শ্মশান চালু রয়েছে। নতুন শ্মশান কার্যকর হলে কেওড়াতলার ওপর চাপ অনেকটাই কমবে এবং দক্ষিণ কলকাতার মানুষের জন্য সৎকারের সুযোগ-সুবিধা আরও সহজলভ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
