শুক্লা মাইতি ;
উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে অভয়াকাণ্ডের আবহে আচমকাই হাজির হলেন ব্যারাকপুরের প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং। বৃহস্পতিবার অভয়ার বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন তিনি। এই সাক্ষাৎকার ঘিরেই এলাকায় শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা। অনেকের প্রশ্ন, তবে কি আগামী নির্বাচনে অভয়ার পরিবারের কেউ বিজেপির প্রার্থী হতে চলেছেন? সেই সম্ভাবনা নিয়েই কি এই সফর?
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে পানিহাটিতে অভয়ার বাড়িতে পৌঁছন অর্জুন সিং। সেখানে তিনি অভয়ার বাবা-মায়ের সঙ্গে একান্তে কিছুক্ষণ আলোচনা করেন। বাড়ির বাইরে তখন ভিড় জমায় স্থানীয় মানুষ ও সংবাদমাধ্যম। অভয়াকাণ্ডের পর থেকেই এলাকায় নানা রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতাদের আনাগোনা বাড়ছে। সেই ধারাবাহিকতাতেই প্রাক্তন সাংসদের এই সফরকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে ওঠে।
উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগে ঘটে যাওয়া অভয়াকাণ্ড রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল। ঘটনার পর থেকেই অভয়ার পরিবার বিচার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে অর্জুন সিং-এর পানিহাটি সফরকে ঘিরে শুরু হয় নানা জল্পনা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আগামী লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনের আগে অভয়াকাণ্ডকে সামনে রেখে বিজেপি নতুন মুখ সামনে আনতে পারে। সেই কারণেই হয়তো অভয়ার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে দল—এমনটাই মনে করছেন অনেকেই।
তবে এই সমস্ত জল্পনাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ নিজেই। বাড়ি থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অর্জুন সিং জানান, “আমি সম্পূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেই এখানে এসেছিলাম। কিছু ব্যক্তিগত কথা হয়েছে, যা সংবাদমাধ্যমের সামনে বলা সম্ভব নয়। তবে নির্বাচনে দাঁড়ানো বা রাজনৈতিক কোনো বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি।”
অন্যদিকে অভয়ার বাবা-মাও একই সুরে জানিয়েছেন, বিজেপির হয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেননি প্রাক্তন সাংসদ। তাঁদের কথায়, “আমরা এখনো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছি। কেন্দ্র সরকারও এই মামলায় বিশেষ কিছু করতে পারেনি বলে আমাদের মনে হয়। তাই নির্বাচনে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গ আমাদের সামনে তোলা হয়নি।”
যদিও উভয় পক্ষই এই সাক্ষাৎকে নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ বলেই দাবি করেছেন, তবুও রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, অভয়াকাণ্ড ঘিরে জনমতের যে আবেগ তৈরি হয়েছে, ভবিষ্যতে তা রাজনীতির ময়দানে প্রভাব ফেলতে পারে। সেই কারণেই এই ধরনের সাক্ষাৎ নিয়ে জল্পনা পুরোপুরি থামছে না।
সব মিলিয়ে পানিহাটিতে অভয়ার বাড়িতে অর্জুন সিং-এর এই সফর আপাতত ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বলেই দাবি করা হলেও, এর রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা যে আগামী দিনে আরও বাড়বে, তা বলাই যায়।
