ওঙ্কার ডেস্ক: রবিবারের প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় কলকাতার একাধিক এলাকায় জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। দুপুরের দিকে মধ্য কলকাতার সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ে একটি বড় গাছ ভেঙে রাস্তার উপর পড়ে যাওয়ায় দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়। শহরের অন্যতম ব্যস্ত এই সড়কে হঠাৎ গাছ পড়ে যাওয়ার ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে যানজটের সৃষ্টি হয় এবং বিপাকে পড়েন অফিসযাত্রী, সাধারণ পথচারী ও গাড়িচালকেরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, টানা বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার জেরে গাছটির শিকড় দুর্বল হয়ে পড়েছিল। দুপুরের দিকে ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে সেটি উপড়ে রাস্তার উপর আছড়ে পড়ে। গাছের বড় বড় ডাল রাস্তার বেশিরভাগ অংশ ঢেকে দেওয়ায় যান চলাচল কার্যত থমকে যায়। বহু বাস, ট্যাক্সি, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং পণ্যবাহী যান দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় আটকে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ, দমকল ও পুরসভার কর্মীরা। পরে গাছ কেটে সরানোর কাজ শুরু হয় এবং কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
তবে শুধু সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ নয়, রবিবারের বৃষ্টিতে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় জল জমার সমস্যাও প্রকট হয়ে ওঠে। শহরের একাধিক নিচু এলাকায় এখনও জল দাঁড়িয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। বেলেঘাটা, ট্যাংরা, পার্ক সার্কাস সংলগ্ন কিছু অংশ, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের আশপাশ, কাঁকুড়গাছি, তিলজলা, পূর্ব কলকাতার বিভিন্ন এলাকা এবং শহরতলির কয়েকটি অঞ্চলে জল নামতে সময় লাগছে। কোথাও কোথাও রাস্তার উপর হাঁটু সমান জল জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বৃষ্টির কারণে বেশ কিছু রাস্তায় গর্ত তৈরি হয়েছে এবং জলমগ্ন অবস্থায় সেই গর্ত চোখে না পড়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে। জল জমার কারণে বহু এলাকায় ছোট গাড়ি ও মোটরবাইক চালকদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক ঘণ্টা বৃষ্টি হলেই শহরের বিভিন্ন অংশে জল জমে যাওয়ার সমস্যা এখনও পুরোপুরি কাটেনি।
আবহাওয়া দফতর আগামী কয়েকদিনও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে। ফলে জল জমা ও গাছ ভেঙে পড়ার মতো ঘটনার আশঙ্কা এখনও থাকছে। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকদের প্রয়োজন ছাড়া খারাপ আবহাওয়ার সময় বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ে গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর না মিললেও শহরের বিভিন্ন এলাকায় জল জমা এবং যানজটের কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ রবিবারও অব্যাহত ছিল। টানা বর্ষণে কলকাতার নাগরিক পরিকাঠামোর প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।