বিপ্লব দাশ : ফের জ্বলছে মণিপুর। দিনভর অশান্তি, ভাঙচুর, অবরোধ। বেশ কয়েকজনের জখম হওয়ারও খবর মিলছে। কিন্তু কেন এই পরিস্থিতি আবার ? তা হল, মেইতেই গ্রুপের নেতা আসেম কাননকে গ্রেফতার। গ্রেফতার করেছে সিবিআইয়ের দুর্নীতি দমন শাখা। আর এতেই জেগে উঠল ছাইচাপা আগুন। এরই প্রতিবাদে ফের তেতে উঠল পুরোনো অশান্তি। ইতিমধ্যে ১০ দিন মণিপুর জুড়ে বনধের ডাক দিয়েছে মেইতেই গোষ্ঠীভুক্ত সংগঠন আরামবাই টেংগোল। মাথায় পেট্রল ঢেলে প্রতিবাদ করতে দেখা গিয়েছে তাদের সদস্যদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে র্যা্ফ, আধাসেনা নামলেও মোটেই ভাল ঠেকছে না। শোনা যাচ্ছে, সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে মণিপুরের বেশ কয়েকটি জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এইসব করেই কী দীর্ঘদিনের দাবিকে দমিয়ে রাখা যাবে ?
সিবিআইয় জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে তারা মণিপুর অশান্তির সঙ্গে সম্পর্কিত মামলাগুলি তদন্ত করছে। বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে এই মামলাগুলির বিচার চলছে গুয়াহাটিতে। এমনই একটি মামলায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে রবিবার ইম্ফল বিমানবন্দর থেকে কাননকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আইন তার পথে চলবে, কিন্তু সিবিআই কিংবা পুলিশ কি বারবার মণিপুরের হৃদস্পন্দন মাপতে ব্যর্থ হবে ? এটা কোনো সাময়িক বিক্ষোভ নয়। এর সলতে ডুবে আছে বহু গভীরে। সেদিকে কি নজর দেওয়ার সময় কিংবা গুরুত্ব বোঝার মতো মাথা বাড়াতে চাইছে না কেন্দ্র ? কেন ? ছোট্টো রাজ্য বলে ? সংসদীয় গণতন্ত্রের ম্যাজিক ফিগারে নগণ্য অবদান বলে ?
এই ঘটনায় ফের জেগে উঠছে ২০২৩ সালে শুরু হওয়া অগ্নিগর্ভ মণিপুরের কথা। সেই আগুন নেভাতে একবছর কেটে গিয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বীরেন্দ্র সিং পদত্যাগ করায় সাময়িক শান্তি ফিরেছিল মণিপুরে। কিন্তু তার রাজনৈতিক সমাধান এখনও হয়নি। রাজ্যের মাথায় রাজ্যপাল অজয় ভল্লাকে বসিয়ে দিয়ে হাত গুটিয়ে নিয়েছে কেন্দ্র। কিন্তু ভৌগলিক এবং রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রাজ্যের প্রতি প্রয়োজনীয় এবং অনিবার্য মীমাংসার প্রতি দরদী হতে দেখা যায়নি দিল্লিকে। ফলে কুকি ও মেইতেই গোষ্ঠীর মধ্যে আগুন সাময়িক চাপা থাকলেও নিভে যায়নি। তাই হয়তো এই ঘটনায় ফের বিস্ফোরণ ঘটে মেইতি গোষ্ঠীর মধ্যে। একটাই আশঙ্কা আবার কি জ্বলতে থাকবে মণিপুর ? শুরুতেই যদি তৎপর না হয় কেন্দ্র, তাহলে বড়সড় বিপদের সম্ভাবনা থেকেই যায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল দেশের নিরপত্তার দিক থেকে খুব একটা স্বস্তিতে নেই।
