ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের প্রযুক্তিভবিষ্যৎকে আরও শক্তিশালী করতে নয়া বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, আগামী চার বছরে দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্লাউড পরিকাঠামো গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে প্রায় ১৭.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি এশিয়ার মধ্যে তাদের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। এই বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে ভারতের প্রযুক্তি বাজার, তরুণদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং স্টার্টআপ পরিবেশে বড় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, মাইক্রোসফট এবার দেশের একাধিক শহরে হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার স্থাপন করতে যাচ্ছে। বিশেষ করে হায়দরাবাদে একটি নতুন ক্লাউড অঞ্চল চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা দেশের বাড়তে থাকা ডেটা ব্যবহারের চাহিদা পূরণ করবে। একই সঙ্গে চেন্নাই, হায়দরাবাদ ও পুনের অবকাঠামো আরও সম্প্রসারণ করা হবে। সরকার, শিল্প সংস্থা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলির ডিজিটাল পরিষেবা আরও বাড়াতে এই উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কেবল পরিকাঠামো তৈরিই নয়, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও বড় পরিকল্পনা করেছে সংস্থা। জানা গেছে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ২০ মিলিয়ন তরুণকে এআই ভিত্তিক প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী, চাকরিপ্রার্থী, আইটি কর্মী এবং স্টার্টআপ সংশ্লিষ্টদের জন্য আলাদা স্কিল উন্নয়ন প্রকল্প তৈরি করা হবে। সরকারি বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও মাইক্রোসফটের এআই সমাধান যুক্ত করার জন্য আলোচনা চলছে।
সংস্থার মতে, ভারতের ডিজিটাল পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হবে নিরাপদ ডেটা সঞ্চয় এবং নিজস্ব সার্বভৌম ক্লাউড পরিষেবা তৈরি। তাই ক্লাউড ব্যবস্থায় ডেটা সুরক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি প্রকল্প, আর্থিক পরিষেবা এবং বড় শিল্প গোষ্ঠীগুলির জন্য আলাদা ডেটা ব্যবস্থাপনা নীতি প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই বিনিয়োগ ভারতের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। দেশজুড়ে বিস্তৃত স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম আরও শক্তিশালী হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগের পথও প্রশস্ত হবে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে ভারত আরও দৃঢ় অবস্থান নিতে পারবে। সরকারের দৃষ্টিতে, এটি ডিজিটাল ইন্ডিয়া প্রকল্পের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। মাইক্রোসফটের এই সিদ্ধান্ত কেবল শিল্পক্ষেত্রেই নয়, দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ নির্মাণে ভারতের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
