ওঙ্কার ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিনে সিঙ্গুরে সভা থেকে একাধিক প্রকল্পের শিলান্যাস করে, বাংলার মানুষের জন্য নানা বিধ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বাংলায় নিজেদের কৃতিত্বের দামামা বাজিয়েছেন, পাশাপাশি রাজ্যের শাসকদলের কর্মসূচীর তীব্র সমালোচনা করেছেন। বাংলায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে সিঙ্গুরের ভূমিতে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের এহেন বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপুর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
পশ্চিমবঙ্গ সফরের অংশ হিসেবে রবিবার হুগলির সিঙ্গুরে পৌঁছে একাধিক সরকারি কর্মসূচি ও রাজনৈতিক সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও শিল্প-ইতিহাসের কারণে আলোচনায় থাকা সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তৃত বক্তব্য রাখেন। সকাল থেকেই সভাস্থলে মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সমর্থকদের উপস্থিতিতে সভামঞ্চ ও তার আশপাশ ছিল জনসমুদ্রে পরিণত।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন এবং বলেন, পরিকাঠামো উন্নয়ন, রেল ও জলপথের সম্প্রসারণ, শিল্প ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে নতুন গতি দেওয়ার লক্ষ্যেই এই প্রকল্পগুলি রূপায়িত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে রাজ্যে কয়েকশো কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
সিঙ্গুরের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময় এই এলাকা শিল্পায়নের স্বপ্ন দেখেছিল, কিন্তু রাজনৈতিক বাধা ও সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি তাঁর ভাষণে তৃণমূল সরকারকে ব্যাপক তুলোধনা করেন। তাঁর বক্তব্যে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে শিল্প ও উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, কেন্দ্র ও রাজ্যে একই সরকারের সমন্বয় থাকলে উন্নয়নের গতি বহুগুণ বাড়ে।
রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে সম্মান জানিয়ে কেন্দ্র সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারা বজায় থাকবে। সভামঞ্চে উপস্থিত বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতারাও পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের আহ্বান জানান এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে এই সভাকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কড়া। সভা শেষে নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী তিনি রাজ্যের অন্যান্য প্রকল্প সংক্রান্ত কার্যক্রমে অংশ নেন।
