নিজস্ব প্রতিনিধি, মুর্শিদাবাদ : শনিবার বেলডাঙা ও রেজিনগরের সংযোগস্থলে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে হচ্ছে বাবরি মসজিদের শিলান্যাস। জোরকদমে তার প্রস্তুতি চলছে। হাইকোর্ট এই মামলায় হস্তক্ষেপ বা করায় প্রস্তুতিপর্ব আরও জোরালো হয়েছে। এদিন সকালে ছেতিয়ানিতে প্রস্তুতিপর্ব খতিয়ে দেখতে যান তৃণমূলের বহিস্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন। হাই কোর্ট মামলায় হস্তক্ষেপ বা করায় সাংবিধানের জয় বলেই উচ্ছাস প্রকাশ করেন হুমায়ুন। পাশাপাশি তৃণমূলের অন্দরের কথা প্রকাশ করে রাজ্যের শাসকদলকে কার্যত পথে নামিয়ে আনলেন হুমায়ুন। রাজ্য সরকারের তোলাবাজি, বিজেপির সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের আঁতাত, সমঝোতার অভিযোগ প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি। এদিন ছেদিয়ানিতে প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের শিলান্যাস স্থলে উপচে পড়ে হুমায়ুন সমর্থকদের ঢল।
বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের শিলান্যশ নিয়ে রাজ্য রাজনীতি সরগরম হয়ে রয়েছে। এরমধ্যে হাইকোর্ট এই মামলায় হস্তক্ষেপ না করায় হুমায়ুন সমর্থকরা উত্তেজনায় টগবগ করে ফুটছে। উচ্ছসত হুমায়ুন নিজেও। ১২ নম্বর রাজ্য সড়কের পাশে জোর কদমে চলছে শিলান্যাসের প্রস্তুতি। শুক্রবার সকালে সেখানে যান তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন হাজার দুয়েক অনুগামী। শনিবার দুপুর ১২টা থেকে শুরু হবে শিলান্যাসের অনুষ্ঠান। হুমায়ুনের কথায় সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইতিমধ্যে দুবাই, সৌদি থেকে মৌলানারা গুজরটে এসে পৌঁছেছেন। দেশ বিদেশ থেকে বাবরি মসজিদের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসছেন।
হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা দেখার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। সেইমতো শনিবার যাতে আইনশৃঙ্খলার কোন অবনতি না হয় তার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ প্রশাসন। প্রশাসন সূত্রে খবর, শনিবার বেলডাঙায় নামানো হচ্ছে ১৮ কোম্পানি বিএসএফ জওয়ান। বিভিন্ন জেল থেকে আনা হচ্ছে প্রচুর পুলিশ বাহিনী। থাকছে র্যাফ। বেলডাঙা ও রেজিনগর এলাকা কার্যত পুলিশের দখলে থাকছে বলেই জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ।
এদিকে হুমায়ুন জানিয়েছেন, বহরমপুর থেকে পলাশি জাতীয় সড়কের ৪০ কিমি বাবরি মসজিদ সমর্থকদের দখলে থাকবে। তবে তিনি এও জানিয়েছেন, পুরো পরিস্থিতি দেখতে দু’হাজার ভলেন্টিয়ার রাখা হচ্ছে। আমরা কোনভাবেই চাইবনা কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটুক। পুলিশ প্রশাসনও বিষয়টি দেখবেন।
