
ওঙ্কার ডেস্ক: চলতি মাসেই রাজপথে নামতে চলেছেন ২০১৬-র এসএসসি দুর্নীতিকাণ্ডে চাকরি হারানো হাজার হাজার প্রার্থী। ২১ এপ্রিল নবান্ন অভিযান কর্মসূচির ডাক দিয়েছ ‘বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থী ও চাকরিহারা ঐক্য মঞ্চ’। তাঁদের দাবি, বহুবার প্রশাসনের দ্বারে গিয়েও সাড়া মেলেনি। এবার আর আশ্বাসে নয়, তারা চায় স্পষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বাতিল করে দেয়। এই রায়ে চাকরি হারিয়েছেন ২৫ হাজার ৭৫৩ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষা কর্মী। এরপরেই রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলেও, বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতের চূড়ান্ত রায়ে বাতিলই থেকে যায় সেই নিয়োগ।
এই পরিস্থিতিতে তীব্র ক্ষোভে ফুঁসছে চাকরি হারানো প্রার্থীদের একাংশ। ঐক্যমঞ্চের তরফে এক সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই একাধিক সংগঠন তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার পরিকল্পনা রয়েছে।
মঞ্চের এক নেতা বলেন, “এর আগেও আমরা বারবার প্রশাসনের কাছে গিয়েছি। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে মানবিক আবেদন করেছি। কিন্তু তাঁকে অমানবিক বলতেই বাধ্য হচ্ছি। শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, এবার চাই বাস্তবায়ন। চাকরি ফিরে পেতে লড়াই চলবে।”
একইসঙ্গে স্পষ্ট ডেডলাইনও দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। জানানো হয়েছে, পয়লা বৈশাখ—অর্থাৎ ১৫ এপ্রিলের মধ্যে রাজ্য সরকার যদি প্রতিটি মঞ্চের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় না বসে এবং কোনও সমাধানে না পৌঁছায়, তাহলে নির্ধারিত তারিখেই নবান্ন অভিযান হবে এবং আরও বৃহত্তর আন্দোলনের দিকে এগোবে ঐক্যমঞ্চ। শিক্ষাক্ষেত্রে এ এক নজিরবিহীন ঘটনা। আদালতের রায়ে যাঁদের চাকরি চলে গেছে, তাঁদের জীবিকা ফিরে পাওয়ার দাবিতে এমন আন্দোলন কী মোড় নেয়, এখন তাকিয়ে রাজ্যবাসী।