বিপ্লব দাশ : দেশে বিদেশে, ঘরে বাইরে, ক্রমেই নির্বান্ধব হয়ে পড়ছেন নরেন্দ্র মোদী। কয়েকদিন বাদেই তিনি ৭৫-এ। দলের নীতি নির্ধারণ বদলে ৭৫-এর পর ক্ষমতায় বিরাজ করতে হলে দলের উপর যে আধিপত্য দরকার ছিল, নরেন্দ্র মোদীর তা এখন আছে কিনা সে নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। নিজের পছন্দের ব্যক্তিকে দলের সভাপতি না করতে পারায় তা পড়ে রইল না মাসের পর মাস। মোদীর পছন্দের ব্যক্তিকে যে দল ও আরএসএস চাইছে না এটা আর অস্পষ্ট নয়। ঠিক এমন সময় পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। “নমস্তে ট্রাম্প” এখন ইতিহাস মাত্র।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এত ঘেঁষাঘেঁষির পরও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ তিনি। বলাবাহুল্য, সম্প্রতি দিল্লিতে আরএসএসের “শতবর্ষ যাত্রা”-র মঞ্চ থেকে সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবত অবসর প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সুকৌশলে একটা কথা বলেছিলেন, প্রতিষ্ঠান চাইলে থাকব, নাহলে চলে যেতে হবে। ভাগবতের এই কথা সহজ ভাবে নিলে চলবে না। কারণ লঘু কথা বলার মানুষ নন ভাগবত। তিনি যে বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন প্রতিষ্ঠান সবার আগে, দল সবার উর্দ্ধে তা আর বলার অপেক্ষায় থাকে না। আর এখানেই হোঁচট খায় মোদীর ‘পারসোনক্র্যাসি’ বা ‘ব্যক্তিতান্ত্রিক’ চরিত্র। ‘মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়’, মোদীর গ্যারান্টি’ এ সব তো তারই অহংকার। যেখান থেকে বোঝা যায় দলের উর্দ্ধে গিয়ে নরেন্দ্র মোদী যে নিজস্ব সত্তা গড়ে তুলেছিলেন। সেটাই এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর রাজনীতিমুখী হিন্দুত্ববাদ এবং আদানিমুখী বিদেশ নীতিই মোদীকে আস্তে আস্তে মোদীচ্যূত করেছে।
তাই বোধ হয় দলের মধ্যে প্রকট হয়ে উঠেছে তাঁর দুর্বলচেতা মানসিকতা। যে অক্ষমতার কারণে অপারেশন সিঁদুর ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেননি। যে দুর্বলতার কারণে শুল্ক ইস্যুতে ট্রামের মুখের উপর যোগ্য জবাব দিতে পারেননি। এখন এসসিও বা সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনকে সামনে রেখে কূটনৈতিক জয়ের আওয়াজ তুললেও ভবিষ্যতে তা কী রূপ নেবে তা এখনই বলা মুশকিল। আমেরিকা চিনের প্রশ্নে কূটনৈতিক দিক থেকে আগেই এগিয়ে পাকিস্তান। এমন কি চিন আমেরিকার বেনিয়া বোঝাপড়া যে গভীরে রয়েছে সেখান থেকে অন্তত ট্রাম্প রেজিমে ভারত কতটা সুবিধা পাবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ থেকে যাচ্ছে। কারণ বিশ্ব রাজনীতিতে ঠিকঠাক মিত্র বলে কিছু নেই। সেখানে বিচার হয় কে শত্রু আর কে শত্রু নয়। ৭৫-এ এসে এই বিষম লড়াইয়ে পড়তে হয়েছে নরেন্দ্র মোদীকে। ৭৫-এ এসে লালকৃষ্ণ আদবানিকেও কিন্তু কেন্দ্রের বহু গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছিল।
