ওঙ্কার ডেস্ক: নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে উত্তাল দেশ। প্রধানমন্ত্রী নিশ্চুপ ছিলেন এতদিন। অবশেষে দুদিন আগে জানিয়েছিলেন, প্রশ্ন ফাঁস ঘোরতর পাপ। দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র-যুবদের ধারাবাহিক বিক্ষোভের মাঝে নিট কাণ্ডের বিচারের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার সেই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।
এক্স পোস্টে তিনি লেখেন, “প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে। তাঁদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা ‘ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং আধিকারিকদের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।”
গত মঙ্গলবার এনডিএ-র সংসদীয় দলের বৈঠকেই প্রশ্নফাঁস বিতর্কে মুখ খুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। অভ্যন্তরীণ বৈঠকে মোদীর ওই বার্তার কথা প্রকাশ্যে আনেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তবে প্রধানমন্ত্রী নিজে কেন প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করছেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এ বার সেই বিতর্কে ইতি টানলেন মোদী।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “আমাদের তরুণদের ভাল রাখা এবং তাঁদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোনও কিছুই এর চেয়ে বড় নয়।” একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যাঁরা ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা করবেন, তাঁদের কোনও ভাবেই রেয়াত করা হবে না।
নিট প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষায় অব্যবস্থার প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে ধারাবাহিক বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। তাঁদের অন্যতম দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা। তবে ফাস্ট ট্র্যা্ক আদালতের কথা ঘোষণা করলেও, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা নিয়ে কিছু জানান নি।
ঘটনাচক্রে, মোদী যে দিন প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের বিচারের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের কথা ঘোযণা করলেন, তার আগে ছাত্রবিক্ষোভে দিল্লি পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ। সঙ্ঘের মতে, আলোচনার মাধ্যমে বিক্ষুব্ধ পড়ুয়াদের কাছে পৌঁছনোর যে পদক্ষেপ সরকার করছে, তা কয়েক দিন আগে করলে সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হত। সরকারের অনেক আগে আলোচনায় বসা উচিত ছিল। তা হলে পরিস্থিতি এ ভাবে হাতের বাইরে যেত না।