ন্যাজাল পলিপ বা নাকের পলিপ হলো নাকের ভেতরে কিংবা সাইনাসের আশপাশে তৈরি হওয়া নরম, সাধারণত ব্যথাহীন মাংসল বৃদ্ধি। দীর্ঘদিন ধরে নাকের ভেতরে প্রদাহ, অ্যালার্জি বা দীর্ঘস্থায়ী সাইনাসের সমস্যার কারণে এটি হতে পারে। সময়মতো লক্ষণ চিনতে পারলে এবং সঠিক চিকিৎসা নিলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
ন্যাজাল পলিপের লক্ষণ কী কী?
ন্যাজাল পলিপ হলে সাধারণত নাক বন্ধ থাকা, নাক দিয়ে শ্বাস নিতে অসুবিধা, ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়া, খাবারের স্বাদ কম অনুভব করা এবং নাক দিয়ে জল পড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে কপাল, গাল বা চোখের আশপাশে চাপ অনুভূত হয়। কারও কারও মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া, রাতে নাক ডাকা এবং ঘুমের সমস্যা হতে পারে। তবে এই লক্ষণগুলি অন্য নাকের রোগেও দেখা যায়, তাই শুধু উপসর্গ দেখে নিশ্চিতভাবে পলিপ নির্ণয় করা যায় না।
কী কী সতর্কতা নেওয়া উচিত?
ন্যাজাল পলিপের সমস্যা থাকলে ধুলোবালি, ধোঁয়া, সিগারেটের ধোঁয়া, তীব্র সুগন্ধি এবং যে উপাদানে অ্যালার্জি বাড়ে, সেগুলি এড়িয়ে চলুন। ঘরের পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন এবং প্রয়োজন হলে বাইরে বেরোনোর সময় মাস্ক ব্যবহার করুন। নাক পরিষ্কারের জন্য স্যালাইন স্প্রে বা নাক ধোয়ার দ্রবণ ব্যবহার করা যেতে পারে। নাক ধোয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত, ডিস্টিল্ড অথবা ফুটিয়ে ঠান্ডা করা জল ব্যবহার করবেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন নাক খোলার ডিকনজেস্ট্যান্ট স্প্রে ব্যবহার করবেন না। নিজের ইচ্ছায় অ্যান্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড বা অন্য কোনও ওষুধ খাওয়াও উচিত নয়।
উপশমের উপায় কী?
ন্যাজাল পলিপের চিকিৎসায় স্যালাইন ন্যাসাল ওয়াশ নাকের ময়লা ও শ্লেষ্মা পরিষ্কার করতে সাহায্য করতে পারে। চিকিৎসক প্রয়োজনে কর্টিকোস্টেরয়েড ন্যাসাল স্প্রে দিতে পারেন, যা প্রদাহ কমিয়ে পলিপের উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। গুরুতর ক্ষেত্রে বিশেষ ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। তবে অস্ত্রোপচারের পরও কিছু মানুষের পলিপ আবার হতে পারে, তাই নিয়মিত চিকিৎসা ও ফলো-আপ গুরুত্বপূর্ণ।
বাড়িতে পর্যাপ্ত জল পান, ধোঁয়ামুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা এবং অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে রাখার মতো অভ্যাস উপকারী। কিন্তু রসুন, মধু, তেল বা অন্য কোনও ঘরোয়া উপাদান নাকে ঢুকিয়ে পলিপ গলানোর চেষ্টা করবেন না। এগুলি পলিপ দূর করার প্রমাণিত চিকিৎসা নয় এবং নাকের ক্ষতি করতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
দীর্ঘদিন নাক বন্ধ থাকলে, ঘ্রাণশক্তি কমে গেলে বা বারবার সাইনাসের সমস্যা হলে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। নাকের এক পাশ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা, বারবার রক্তপাত হওয়া বা একপাশে অস্বাভাবিক মাংসল বৃদ্ধি দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করানো জরুরি। চোখ ফুলে যাওয়া, দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন, তীব্র মাথাব্যথা বা উচ্চ জ্বরের সঙ্গে গুরুতর অসুস্থতা দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিন।
মনে রাখবেন: ন্যাজাল পলিপ সাধারণত ক্যানসার নয়, তবে সঠিক রোগ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো চিকিৎসা, নিয়মিত যত্ন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে নাক বন্ধ থাকা ও ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়ার মতো সমস্যার উপশম সম্ভব।