ওঙ্কার ডেস্ক: বুধবার গাজিয়াবাদে একসঙ্গে তিন নাবালিকার আত্মহত্যার কান্ডকে ঘিরে রীতিমত উত্তাল গোটা দেশ। মৃতদের বয়স যথাক্রমে ১২, ১৪ এবং ১৬। ঠিক কি কারণে তিনটি ছোট্ট প্রাণ এমন পদক্ষেপ নিল সে নিয়ে বিস্ময়ে পরিবার সহ পুলিশও। এবার বাড়ি থেকে এক ডাইরির আট পাতার সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে গাজিয়াবাদ থানার পুলিশ। সেখানে লেখা “ক্ষমা করে দিও বাবা”।
ঘটনাস্থল থেকে একটি ছোট ডায়েরি উদ্ধার করেছে পুলিশ, যার ভিতরে পাওয়া গিয়েছে বাবার উদ্দেশে লেখা আট পৃষ্ঠার একটি চিঠি। হাতে লেখা সেই চিঠির শুরুতেই ‘সরি পাপা’ বলে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে। পুরো ডায়েরিটি পড়ার অনুরোধ জানিয়ে লেখা হয়েছে, সেখানে যা কিছু লেখা আছে সবই সত্যি। চিঠিটি হিন্দি ও ইংরেজির মিশ্র ভাষায় লেখা এবং তাতে গভীর মানসিক কষ্ট, একাকীত্ব ও হতাশার ছাপ স্পষ্ট। ঐ ডায়রিতে এক কোরিয়ান টাস্ক ভিত্তিক গেমেরও উল্লেখ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই তিন বোন বাবা-মায়ের সঙ্গে আবাসনের একটি ফ্ল্যাটে থাকত। মাঝরাতে বিকট শব্দ শুনে বাসিন্দারা বাইরে বেরিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, তারা আবাসনের নবম তলা থেকে ঝাঁপ দিয়েছিল।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তিন বোনের ঘরের দেওয়ালেও কিছু লেখা ছিল, যার মধ্যে ‘আমি খুব একা’ ধরনের কথাও পাওয়া গিয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি মোবাইল ফোন ব্যবহার ও অনলাইন গেম খেলা নিয়ে বাড়িতে প্রায়ই অশান্তি চলছিল। পুলিশ সন্দেহ করছে, একটি বিদেশি অনলাইন টাস্ক-ভিত্তিক গেমে তারা অতিরিক্তভাবে জড়িয়ে পড়েছিল তিন জনে, যা তাদের মানসিক অবস্থার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর গোটা আবাসন স্তব্ধ। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, তিন বোনই শান্ত স্বভাবের ছিল এবং পড়াশোনায় মনোযোগী। এমন মর্মান্তিক পরিণতি কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। ইতিমধ্যে পুলিশ ডায়েরি, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক তথ্য পরীক্ষা করে দেখছে। ঠিক কী কারণে এই চরম সিদ্ধান্ত, তা জানতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।
