ওঙ্কার ডেস্ক: বিগত কয়েক দিন যাবত দেশের বিমান পরিবহণে বিশৃঙ্খলার পর ইন্ডিগোর শীর্ষ কর্তারা তদন্তের মুখে। এই পরিস্থিতিতে ইন্ডিগোর সিইও পিটার এলবার্সের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী রামমোহন নাইডু। সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ফ্লাইট বাতিল, যাত্রী হয়রানি এবং ক্রু ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির দায় যদি সিইও–র ওপর বর্তায়, তবে প্রয়োজনে তাঁকে সরিয়েও দেওয়া হতে পারে।
গত কয়েক দিনে ইন্ডিগোর শতাধিক ফ্লাইট বাতিল ও সময় পরিবর্তনের কারণে হাজার হাজার যাত্রী বিপাকে পড়েন। বিমানবন্দরে দীর্ঘ প্রতীক্ষা, রিফান্ড জটিলতা এবং যাত্রা বাতিল হওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের দাবি, সংস্থাকে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল এবং নতুন ফ্লাইট ডিউটি সময়সীমা কার্যকর হওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ইন্ডিগো প্রস্তুতি নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এর পরই কোম্পানির বিরুদ্ধে তদন্ত ও রিপোর্ট পেশের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
ডিজিসিএ ইতিমধ্যেই ইন্ডিগোর কাছে নোটিশ পাঠিয়েছে। সংস্থাকে ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে, কীভাবে রোস্টার পরিকল্পনায় এমন অসামঞ্জস্য তৈরি হলো যে দেশের বিমান ব্যবস্থাই কয়েকদিনের জন্য অচল হয়ে গেল। ক্রু ঘাটতি, ছুটি অনুমোদন এবং ডিউটি বরাদ্দের সমস্যাকেই মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে প্রাথমিক অনুসন্ধানে। পাশাপাশি, যাত্রীদের ক্ষতিপূরণ, অতিরিক্ত খরচ ফেরত এবং বিকল্প উড়ান নিশ্চিত করার দিকেও নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যেই কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ইন্ডিগোর উড়ান কার্যক্রম সাময়িকভাবে কমানো হবে। সংস্থার নির্দিষ্ট কয়েকটি রুটে ফ্লাইট সংখ্যা কাটছাঁট করা হচ্ছে। সরকারের মতে, বিমান চলাচল স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এটাই সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা। যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে বিকল্প বিমান পরিষেবায় সমন্বয় করার কথাও বলা হয়েছে।
মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশে বিমান যাত্রা এখন আর শুধু বাণিজ্যিক পরিষেবা নয় এটি সরাসরি মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত। তাই এমন পরিস্থিতি আর চলতে দেওয়া হবে না। সংস্থার নীতি, পরিকল্পনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কোথাও কোনও ধরনের অবহেলা থাকলে তার দায় শীর্ষস্তরকেই বহন করতে হবে। সেই কারণেই সিইও–র পদ নিয়ে আলোচনার কথা সরকারের তরফে প্রকাশ্যে স্বীকার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা দেশের বিমান পরিষেবা ব্যবস্থাকে আরও কঠোর নিয়মের দিকে ঠেলে দেবে। যাত্রী সুরক্ষা এবং পরিষেবার মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে এখন থেকে কোম্পানিগুলিকে আরও স্বচ্ছ নীতি এবং সঠিক পরিকল্পনা দেখাতে হবে। একই সঙ্গে যাত্রীদের হয়রানি রোধে রিফান্ড ব্যবস্থা, তথ্য জানানোর নিয়ম এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন নীতিও আসতে পারে।
