ওঙ্কার ডেস্ক : রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে তৈরি এক ২৮ দফা শান্তি প্রস্তাব নিয়ে রাশিয়া ইতিবাচক সুরে সাড়া দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে একই প্রস্তাব নিয়ে কোনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইউক্রেন। কিয়েভের নীরবতা থেকেই বোঝা যাচ্ছে, এই উদ্যোগ কতটা বাস্তবায়নযোগ্য তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিশেষজ্ঞমহলে।
মার্কিন প্রশাসনের তরফে কয়েক দফা গোপন বৈঠকের পর ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ প্রতিনিধিরা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে রাশিয়া প্রস্তাবের খসড়াকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণযোগ্য বলে জানিয়েছে। তবে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য যে পরিবর্তনগুলি প্রয়োজন, সেগুলির উল্লেখও করেছে মস্কো। এর পরেই আলোচনার গতি কিছুটা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু ইউক্রেনের অবস্থান স্পষ্ট না হওয়ায় আবারও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
শান্তি–প্রস্তাবে জানতে চাওয়া হয়েছে ইউক্রেন কি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলগুলিকে বাস্তবতা হিসেবে মেনে নেবে কিনা। এমনকি যে অঞ্চলগুলি এখনো রুশ বাহিনীর দখলে সম্পূর্ণভাবে যায়নি, সেগুলির ভবিষ্যৎ নিয়েও তাতে শর্ত রাখা হয়েছে। ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের ইচ্ছার বিরোধিতা এবং সামরিক সক্ষমতায় কাটছাঁট করার পরামর্শও রয়েছে প্রস্তাবে। এর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও বেশ কিছু পশ্চিমা দেশ সীমিত নিরাপত্তা নিশ্চয়তার প্রতিশ্রুতি দেবে এমনটাই জানানো হয়েছে।
এই প্রস্তাবকে কিয়েভ মূলত আত্মসমর্পণের রূপরেখা হিসেবে দেখছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ প্রশাসনিক মহল মনে করছে, এমন কোনও চুক্তি ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করবে এবং যুদ্ধের ভবিষ্যত পর্বকে আরও অনিশ্চিত করে তুলবে। যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলগুলিতে যাঁরা গৃহহীন হয়েছেন, তাঁদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের প্রশ্নও এই প্রস্তাবে স্পষ্ট নয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাশিয়ার প্রতিক্রিয়ায় বোঝা যাচ্ছে, যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত কৌশলগত সুবিধা বজায় রাখাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। আগেই কিয়েভকে অধিক চাপের মুখে ফেলার কৌশল নিয়েছে মস্কো একদিকে উষ্ণ বার্তা, অন্যদিকে শর্তাধীন শান্তিপ্রক্রিয়া। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি হলেও তা কার্যত সংঘাতকে ‘বরফে জমিয়ে রাখা’র মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে, যা ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ সংঘর্ষ ডেকে আনতে পারে।
একই সময়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল পরিস্থিতি নজরে রাখছে। পশ্চিমা বিশ্বের একটি অংশ প্রকাশ্যে শান্তি আলোচনার প্রশংসা করলেও, অধিকাংশ বিশেষজ্ঞই মনে করছেন, ইউক্রেনের মতামত ও নিরাপত্তা সংকট অগ্রাহ্য করে কোনও স্থায়ী সমাধানে পৌঁছনো সম্ভব নয়। বরং কিয়েভের ওপর আরও চাপ তৈরি হলে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জনমত–বিরোধিতা জোরদার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অতএব, যে প্রস্তাবকে ধরা হয়েছিল সংঘাত–সমাপ্তির সম্ভাব্য পথ হিসেবে, তা আপাতত অচলাবস্থার মুখে। শান্তির আশা নতুন করে জেগে ওঠার বদলে এই আলোচনার ফলে দুই দেশের অবস্থান কতটা দূরত্বে রয়েছে, তা আরও স্পষ্ট হয়ে গেল।
