ওঙ্কার ডেস্ক: অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের অনুদানের অর্থ নিয়ে ওঠা বিতর্কের আবহে বিজেপি এবং তাদের হিন্দুত্বের আদর্শকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন জ্যোতির্মঠের শঙ্করাচার্য স্বামী অবিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী। উত্তরপ্রদেশের সম্ভলে তাঁর ‘গৌ ধর্ম যাত্রা’-র কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, রামমন্দিরে দানের অর্থের অনিয়মের ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের আড়াল করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, তদন্তের নামে শুধুমাত্র নিম্নপদস্থ কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, অথচ যাঁদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।
শঙ্করাচার্যের বক্তব্য, রামমন্দির ট্রাস্ট গঠনের সময় সনাতন ধর্মের আচার্য, সাধু-সন্ত এবং বেদজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বরং রাজনৈতিকভাবে পছন্দের ব্যক্তিদের ট্রাস্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁরা মূলত দানের টাকা গণনার দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু যদি কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে শুধুমাত্র সেই কর্মীদের দায়ী করা যায় না। তাঁর মতে, এত বড় অঙ্কের অর্থ তছরুপের পিছনে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগ থাকার সম্ভাবনাই বেশি। তিনি বলেন, যদি অভিযোগের কোনও ভিত্তি না থাকত, তাহলে তদন্ত বা এফআইআর দায়েরের প্রয়োজন পড়ত না। তদন্ত শুরু হওয়াই প্রমাণ করে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তাই বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে বলেই তাদের সমালোচনা করা উচিত নয়। গণতন্ত্রে বিরোধী দলের দায়িত্বই হল সরকারের কাজের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
এই প্রসঙ্গেই বিজেপির হিন্দুত্বের ধারণাকে নিশানা করে শঙ্করাচার্য বলেন, বিজেপি একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃত হলেও তাদের প্রচারিত হিন্দুত্ব প্রকৃত হিন্দুত্ব নয়। তাঁর মতে, যারা বেদ, শাস্ত্র এবং গুরু-পরম্পরার আদর্শকে অনুসরণ করে না, তারা প্রকৃত অর্থে হিন্দুত্বের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। সেই কারণেই তিনি বিজেপির হিন্দুত্বকে ‘নকল হিন্দুত্ব’ বলে উল্লেখ করেন। এছাড়াও তিনি উত্তরপ্রদেশে প্রাচীন তীর্থস্থান পুনরুদ্ধারের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও বারাণসীতে মন্দির ভাঙার অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তাঁর ‘গৌ ধর্ম যাত্রা’-র উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষের কাছে গোরক্ষা ও সনাতন ধর্মের পক্ষে অবস্থান নেওয়া প্রার্থীদের সমর্থনের বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এই যাত্রার মূল লক্ষ্য। তাঁর দাবি, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করা নয়। তবে যে রাজনৈতিক দল গোরক্ষা এবং সনাতন ধর্মের মূল্যবোধ রক্ষায় আন্তরিক ভূমিকা নেবে, জনগণ স্বাভাবিকভাবেই তাদের সমর্থন করবে।