ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের অশোকনগর জেলায় একটি গাড়ির ভিতর থেকে এক যুবক ও এক তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়ির ভিতরে তাঁদের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০ ফুট দূরে তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হওয়ায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। এই মৃত্যুর ঘটনায় খুন, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম ঋতিক সোনি এবং তরুণীর নাম মুসকান। দু’জনেই অশোকনগরের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তার ধারে একটি গাড়িকে দীর্ঘক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরে গাড়ির ভিতরে উঁকি দিয়ে দুই যুবক-যুবতীর নিথর দেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ গাড়িটি ঘিরে ফেলে এবং তদন্ত শুরু করে। তদন্তে জানা যায়, গাড়ির চালকের আসনে বসা অবস্থায় ঋতিকের দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর মাথায় গুলির আঘাতের চিহ্ন ছিল। পাশাপাশি মুখের কিছু অংশ পোড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। অন্যদিকে, সামনের আসনে বসা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া মুসকানের গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত ছিল। ঘটনাস্থল থেকেই একটি পিস্তল, একটি রক্তমাখা কুড়ুল এবং একটি কাটার উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই অস্ত্রগুলিই মৃত্যুর ঘটনায় ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা ফরেন্সিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
সবচেয়ে রহস্যজনক বিষয় হল, গাড়ি থেকে প্রায় ৫০ ফুট দূরে তিনটি মোবাইল ফোন পড়ে থাকতে দেখা যায়। মোবাইলগুলি কীভাবে সেখানে পৌঁছল, সেগুলি কারা ব্যবহার করছিল এবং মৃত্যুর আগে বা পরে কেউ সেগুলি ফেলে গিয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা মোবাইলগুলির কল রেকর্ড, মেসেজ, লোকেশন হিস্ট্রি এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করছেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মুসকান বাড়ি থেকে জিমে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়েছিলেন। রাতে বাড়ি না ফেরায় তাঁর পরিবার থানায় নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করে। অন্যদিকে, ঋতিক সম্প্রতি ইন্দোর থেকে অশোকনগরে ফিরেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। দু’জনের মধ্যে পূর্বপরিচয় এবং তাঁদের সম্পর্কের দিকটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে সমস্ত আলামত সংগ্রহ করে ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। দুই মৃতদেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। তদন্তকারীরা খুনের পর আত্মহত্যা, পরিকল্পিত দ্বৈত খুন কিংবা অন্য কোনও অপরাধমূলক ঘটনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না। পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। আপাতত এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।