ওঙ্কার ডেস্ক: দেশের প্রত্যন্ত ও ছোট শহরগুলিকে বিমান পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে চালু হওয়া কেন্দ্রের ‘উড়ান’ (উড়ে দেশ কা আম নাগরিক) প্রকল্পে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা করা হয়েছিল। এতদিন এই প্রকল্পের আওতায় বিমান সংস্থাগুলিকে তিন বছর পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়া হতো। এবার সেই সময়সীমা বাড়িয়ে পাঁচ বছর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। এর ফলে ছোট রুটে বিমান পরিষেবা চালু রাখা এবং নতুন রুটে পরিষেবা সম্প্রসারণে বিমান সংস্থাগুলি আরও বেশি আর্থিক সহায়তা পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
২০১৬ সালে শুরু হওয়া উড়ান প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের ছোট শহর ও প্রত্যন্ত এলাকার বিমানবন্দরগুলিকে নিয়মিত বিমান পরিষেবার আওতায় আনা। কম যাত্রীসংখ্যার কারণে যে সব রুটে বিমান চালিয়ে লাভ করা কঠিন, সেখানে বিমান সংস্থাগুলিকে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ভর্তুকি দেওয়া হয়, যাতে সাধারণ মানুষও কম খরচে বিমানযাত্রার সুযোগ পান। প্রকল্পটি প্রথমে ১০ বছরের জন্য চালু করা হলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, এটি ২০৩৬ সাল পর্যন্ত চালু থাকবে। বাস্তবে দেখা গিয়েছে, বহু ছোট রুটে তিন বছরের ভর্তুকি শেষ হওয়ার পর বিমান সংস্থাগুলি পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। কোচবিহার-কলকাতা রুট তার অন্যতম উদাহরণ। ভর্তুকি বন্ধ হওয়ার পর ওই রুটে বিমান পরিষেবা তুলে নেওয়া হয়। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই কেন্দ্র ভর্তুকির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী রামমোহন নাইডু জানিয়েছেন, নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রথম দুই বছর বিমান সংস্থাগুলি ১০০ শতাংশ ভর্তুকি পাবে। এরপর তৃতীয় বছরে ৭৫ শতাংশ, চতুর্থ বছরে ৫০ শতাংশ এবং পঞ্চম বছরে ২৫ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া হবে। ধাপে ধাপে ভর্তুকি কমিয়ে বিমান সংস্থাগুলিকে স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগ করে দেওয়াই এই নীতির উদ্দেশ্য। মন্ত্রী আরও জানান, আগামী ১০ বছরে দেশের বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের পাশাপাশি সেগুলিকে কার্যকর রাখতে নিয়মিত বিমান পরিষেবা নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। সেই কারণেই উড়ান প্রকল্পে ভর্তুকির মেয়াদ বাড়িয়ে পাঁচ বছর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।