ওঙ্কার ডেস্ক: আগরায় ১১ মাসের এক শিশুকন্যাকে যমুনা নদীতে ছুড়ে ফেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শিশুটির বাবা রিঙ্কুর বিরুদ্ধে এই ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে আগরার আকবরা যমুনা সেতুর কাছে। শিশুটিকে নদীতে ফেলে দেওয়ার পর অভিযুক্ত তাঁর স্ত্রীকেও নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের তৎপরতায় ওই মহিলাকে রক্ষা করা সম্ভব হলেও শিশুটির এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি। তাকে উদ্ধারের জন্য নদীতে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, রিঙ্কু তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মী এবং ১১ মাসের মেয়েকে নিয়ে মোটরবাইকে করে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। কয়েক দিনের মধ্যেই ছিল শিশুটির প্রথম জন্মদিন। সেই উপলক্ষে জামাকাপড় কেনার জন্য তাঁরা বেরিয়েছিলেন বলে জানা যায়। কিন্তু পথে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনও একটি বিষয় নিয়ে বচসা শুরু হয়। সেই বিবাদই শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ ঘটনায় পরিণত হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগ, আকবরা সেতুর কাছে পৌঁছে রিঙ্কু বাইক থামান। এরপর মেয়েকে কোলে নিয়ে সেতুর উপর দাঁড়ান তিনি। এমনকি শিশুটির সঙ্গে ছবি তোলেন বলেও জানা গিয়েছে। কিন্তু এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আচমকা শিশুটিকে যমুনার জলে ছুড়ে ফেলে দেন বলে অভিযোগ। আচমকা ঘটে যাওয়া ঘটনায় মা কিছু বুঝে ওঠার আগেই শিশুটি নদীতে পড়ে যায়।
এরপর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অভিযোগ, রিঙ্কু তাঁর স্ত্রীকেও সেতু থেকে নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রাণ বাঁচাতে ওই মহিলা চিৎকার করে সাহায্যের জন্য আবেদন করেন। তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়রা দ্রুত ওই মহিলাকে সরিয়ে নিয়ে যান এবং অভিযুক্তকে ধরে ফেলেন। পরে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
অভিযুক্তকে আটক করার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। তাঁকে মারধর করা হয় বলেও জানা গিয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রিঙ্কুকে হেফাজতে নেয়। ঘটনার সম্পূর্ণ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে তদন্ত। এদিকে শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য যমুনায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ডুবুরিদের নামানো হয়েছে এবং নদীর বিভিন্ন অংশে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। নদীর স্রোত ও জলস্তরের কারণে উদ্ধারকাজে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। শিশুটির কোনও সন্ধান পাওয়া গিয়েছে কি না, তা নিয়ে পরিবারের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।