ওঙ্কার ডেস্ক: বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন দেহরক্ষী সায়গল হোসেনের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালাল রাজ্য পুলিশ। স্বাধীনতা দিবসের দিনেই এই তল্লাশি ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সায়গল হোসেন দীর্ঘদিন অনুব্রত মণ্ডলের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। গরু পাচার মামলার তদন্তে তাঁর নাম উঠে আসার পর থেকেই তিনি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নজরে রয়েছেন। সেই সায়গলের বাড়িতে রাজ্য পুলিশের এই তল্লাশি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সায়গল হোসেন একসময় বীরভূমের তৎকালীন তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করতেন। অনুব্রতর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে রাজনৈতিক মহলেও তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীকালে গরু পাচার মামলার তদন্তে তাঁর নাম উঠে আসে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির নজরে আসে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ এবং আর্থিক লেনদেন। সেই সূত্রেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরে গ্রেফতারও করা হয়েছিল।
জানা গিয়েছে, শনিবার সায়গল হোসেনের বোলপুরের নিচুপট্টির বাড়িতে হানা দেন রাজ্য পুলিশের আধিকারিকরা। একটি মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই এই অভিযান বলে পুলিশ সূত্রে খবর। বাড়িতে ঢুকে দীর্ঘক্ষণ ধরে তল্লাশি চালানো হয়। বাড়ির বিভিন্ন ঘর, নথিপত্র এবং অন্যান্য সামগ্রী খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। তবে তল্লাশিতে ঠিক কী কী পাওয়া গিয়েছে বা কোনও গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গরু পাচার মামলার তদন্তে সিবিআইয়ের দাবি ছিল, সায়গল হোসেনের সঙ্গে গরু পাচারকাণ্ডে অভিযুক্ত এনামুল হকের যোগাযোগ ছিল। তদন্তে উঠে আসা বিভিন্ন তথ্য ও কল রেকর্ডের ভিত্তিতে তাঁদের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখেছিলেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি সায়গল এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা বিপুল সম্পত্তির উৎস নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তাঁর আয়ের সঙ্গে সম্পত্তির পরিমাণের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আসে।
এর আগে সায়গল হোসেনের একাধিক সম্পত্তিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশি হয়েছিল। তাঁর নামে থাকা জমি-বাড়ি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা তাঁর সম্পত্তির সঙ্গে গরু পাচারকাণ্ডের আর্থিক লেনদেনের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখেছিলেন। সেই সময় থেকেই সায়গলকে ঘিরে তদন্ত আরও জোরদার হয়। তবে শনিবারের রাজ্য পুলিশের অভিযানটি গরু পাচার মামলার তদন্তেরই অংশ কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্য একটি মামলার তদন্তের সূত্র ধরে এই তল্লাশি চালানো হয়েছে। ফলে এই অভিযানের সঙ্গে অতীতের গরু পাচার মামলার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।