ওঙ্কার ডেস্ক: আবারও পণ-নির্যাতনের শিকার তরুণী। মাত্র ২৮ বছর বয়সে প্রাণ গেল নিক্কি ভাটি নামের এক যুবতীর। অভিযোগ, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের হাতে নৃশংসভাবে পুড়িয়ে মারা হল তাঁকে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডায়। পণের দাবিতে অত্যাচার, বেধড়ক মারধর, এবং শেষে আগুনে জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
পরিবারের অভিযোগ, নিক্কিকে ৩৬ লক্ষ টাকার জন্য দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে সাফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে পথেই মৃত্যু হয়। ঘটনার পর একাধিক ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, নিক্কির স্বামী বিপিন তাঁকে চুল ধরে টেনে হিঁচড়ে মারধর করছে। আর এক ভিডিওতে দেখা যায়, আগুনে জ্বলন্ত অবস্থায় সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছেন নিক্কি। শরীর মারাত্মকভাবে দগ্ধ, তবুও কোনক্রমে নিচে এসে মাটিতে বসে পড়েন তিনি। চারপাশে আতঙ্ক, কেউ একজন তাঁর গায়ে জল ঢালছে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।
নিক্কির দিদি কাঞ্চনও একই পরিবারের বৌ। সেও বহুদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। কাঞ্চন জানিয়েছেন, “ওদের দাবি কখনও শেষ হয়নি। একদিন টাকার দাবি, একদিন নতুন গাড়ির দাবি। নিক্কিকে দিনের পর দিন মারধর করা হত। শেষমেশ মেয়েটাকে পিটিয়ে, জ্বালিয়ে মেরে ফেলল।”
পরিবার জানাচ্ছে, ২০১৬ সালে নিক্কির বিয়ের সময়েই দেওয়া হয়েছিল টপ মডেলের স্করপিও গাড়ি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় আসবাব। দফায় দফায় আরও বহু দাবি পূরণ করা হয়। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোভ কমেনি। নিক্কির ভাই রোহিত জানিয়েছেন, “দু’জন জামাইবাবুরই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। আর সেই কারণেই সীমাহীন অত্যাচার শুরু হয়। বিয়ের ছ’মাস যেতেই লাফিয়ে বাড়তে থাকে টাকার অঙ্ক।” নিক্কির মৃত্যুতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তাঁর বাবা। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “যারা মেয়েকে এমন নৃশংসভাবে মেরেছে, তাদের এনকাউন্টারে গুলি করে মারুক পুলিশ। ওদের বাড়ি ভেঙে শাস্তি দেওয়া হোক।”
গ্রেটার নয়ডার অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার সুধীর কুমার জানিয়েছেন, নিক্কির দিদির অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই স্বামী বিপিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেওর তিনজনকেই অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেফতারের জন্য তল্লাশি চলছে।
