
ওঙ্কার ডেস্ক : নবরাত্রির প্রথম দিনেই ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। উত্তরপ্রদেশের কানপুর শহরে দুই সন্তানের মা, প্রিয়াঞ্জা সোনি, বয়স ৩৬ বছর, আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। কারণ হিসেবে উঠে আসছে—পিরিয়ড। হ্যাঁ, এখনও ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েও সমাজের একাংশে ঋতুমতী নারীকে পূজায় নিষিদ্ধ মানা হয়। কিন্তু এই মৃত্যু কি শুধুই সামাজিক ট্যাবুর বলি ? নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে আরও কিছু ?
প্রিয়াঞ্জার স্বামী জানান নবরাত্রির জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ফুল, ফল, প্রদীপ, মিষ্টি—সব কিছু গোছানো ছিল তাঁর। কিন্তু ৩০ এপ্রিল, নবরাত্রির প্রথম দিন আচমকাই তাঁর পিরিয়ড শুরু হয়। স্বামী মুকেশ সোনির কথায়, “ও খুবই মন খারাপ করছিল। আমি বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু কিছুতেই মানছিল না।”সেদিনই বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন প্রিয়াঞ্জা। তৎক্ষণাৎ তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কিছুটা সুস্থ হলে বাপের বাড়ি পাঠানো হয় মানসিক স্বস্তির জন্য।
সাদা চোখে এটুকু দেখা গেলেও সন্দেহ দানা বাঁধে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। কিছুদিন পর ফের তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। উপসর্গ বমি, পিঠে ব্যথা। এই উপসর্গগুলোই সন্দেহ জাগায় ! তবে কী বিষক্রিয়া ? অবস্থার অবনতি হলে অবশেষে সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। অক্সিজেন সাপোর্টে থাকা অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। সময় ছিল মাত্র ১৫–২০ মিনিট। গোটা ঘটনাটাই সন্দেহের চোখে দেখছেন প্রতিবেশিরা। যদিও প্রিয়াঞ্জার স্বামীর দাবি, “ও জুস আনতে পাঠিয়েছিল, “ফিরে এসে দেখি ওর শ্বাসকষ্ট হচ্ছে।” প্রশ্ন উঠছে, বিষ খাওয়ার এতদিন পর এমন মৃত্যু স্বাভাবিক ? নাকি বিষ ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করছিল ? নাকি দ্বিতীয়বার বিষ প্রয়োগ করা হল ?
নাকি সত্যি সত্যি সামাজিক ট্যাবু ও মানসিক অবসাদই প্রিয়াঞ্জাকে শেষ করে দিল। ছোটবেলা থেকে গেঁথে দেওয়া “ঋতুকালে পূজো করা যায় না”, “তুমি অপবিত্র”—এই ধারণাগুলিই তাঁর মনের ভিতরে বিষ বুনে গেছিল।
বর্তমান ঘটনাটি তদন্তাধীন। তবে এটি নিছক একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি নয়, বরং সমাজের গায়ে লেগে থাকা কুসংস্কারের ছায়া। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ফরেনসিক রিপোর্ট সামনে আনা, যাতে সত্যটা জানা যায়—এ মৃত্যু আদৌ আত্মহত্যা কি না।
প্রিয়াঞ্জার দুটি ছোট কন্যা সন্তান রয়েছে। তারা বা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন কোনও ‘ট্যাবু’র বলি না হয়, সেটাই হোক আমাদের সবার লক্ষ্য।