ওঙ্কার ডেস্ক: নেপালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রশ্নে জোর কদমে চলছে আলোচনা। কেপি শর্মা অলি সরকারের পতনের পর থেকে দেশজুড়ে অস্থিরতা বাড়ছে। সেনাবাহিনী কার্যত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলেও রাজধানী কাঠমান্ডুসহ একাধিক শহরে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে দোলাচল বাড়ছে দিন দিন। নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে একাধিক সম্ভাব্য মুখের।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন কাঠমান্ডুর মেয়র বলেন্দ্র শাহ, যিনি স্বাধীন প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন এবং যুবসমাজের একটি বড় অংশের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। প্রথম থেকেই তাঁর নাম অন্তর্বর্তী সরকারের সম্ভাব্য প্রধান হিসেবে উঠে আসে। পাশাপাশি প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশিলা কার্কির নামও সামনে এসেছে। ছাত্র ও তরুণ আন্দোলনকারীদের একটি অংশ তাঁর প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছে। বিচার বিভাগের শীর্ষ পদে আসীন থাকার অভিজ্ঞতা তাঁকে প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক দিক থেকে শক্তিশালী প্রার্থী করে তুলছে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ পরিষেবার সংস্কার ও ঘাটতি দূর করার জন্য খ্যাত কুল মান ঘিসিঙকেও অনেকেই এগিয়ে রাখছেন। নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির প্রাক্তন প্রধান হিসেবে তাঁর দক্ষতা সাধারণ মানুষের মনে দাগ কেটেছে।
তবে সমস্যা হচ্ছে আন্দোলনকারীরা একমত হতে পারছেন না। বিভিন্ন অংশ বিভক্ত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন নামের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। এর ফলে অস্থিরতা আরও বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাওডেল ও সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেল পরপর বৈঠক করছেন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সঙ্গে। আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গেও তাঁদের আলোচনা চলছে। উদ্দেশ্য একটাই, যত দ্রুত সম্ভব গ্রহণযোগ্য একটি নাম ঠিক করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা। কিন্তু ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার আবহে পরিস্থিতি সামলাতে সেনাবাহিনীকে কড়া অবস্থান নিতে হচ্ছে। কারফিউ জারি করা হয়েছে একাধিক জেলায়, এমনকি কিছু কারাগার থেকে বন্দি পালানোর ঘটনাও ঘটেছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চাপ বাড়ছে প্রশাসনের ওপর। নেপালের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা এখন কার্যত নির্ভর করছে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে কাকে বসানো হবে তার ওপর। একদিকে জনতার আস্থা, অন্যদিকে রাষ্ট্রযন্ত্রের স্থিতিশীলতা এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে সরকার ও সেনাবাহিনীকে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সে দিকে তাকিয়ে গোটা দেশ।
