নিজস্ব প্রতিনিধি, উত্তর দিনাজপুর : চোপড়ায় ফের এক ব্যক্তিকে হাত বেঁধে নির্মমভাবে মারধরের ভিডিও ভাইরাল হওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। ঘটনায় সীমান্তবর্তী অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে চোপড়া থানার অন্তর্গত সোনাপুর হাট সংলগ্ন বিহার সীমান্তের বাব্বলগছ এলাকায়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তিকে প্রায় অর্ধনগ্ন অবস্থায় হাত পিছনে বেঁধে বেল্ট ও লাঠি দিয়ে লাগাতার মারধর করা হচ্ছে। নির্যাতনের সেই দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে করিম ভাইজান, তার বাবা মহাম্মদ সালাম এবং তাদের ঘনিষ্ঠ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের প্রভাব এতটাই যে বিহার ও বাংলা সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছেন। অভিযোগ, তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না অনেকেই।
নিগৃহীত ব্যক্তির নাম মহাম্মদ মোজিবুল। তাঁর বাড়ি চোপড়া থানার সোনাপুর হাট এলাকায়। নির্যাতিত ব্যক্তি জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন করিমের বাড়িতে পাহারাদার হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় ছয় থেকে সাত মাস আগে তিনি সেই কাজ ছেড়ে দেন। এরপর একদিন ভোররাতে তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। নিগৃহীতের দাবি, করিমদের বাড়ির গ্যারেজ-কাম-গুদামে তাঁকে আটকে রেখে বেল্ট ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। মারধরের সময় তাঁকে প্রাণে মেরে মহানন্দা নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর তিনি চরম আতঙ্কে ভিন রাজ্যে কাজে চলে যান।
তিনি আরও জানিয়েছেন, গত ১৭ তারিখ বিহারের পোঠিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। কিন্তু অভিযোগ জানানোর পরও তাঁর ওপর চাপ ও হুমকি বন্ধ হয়নি বলে দাবি। সম্প্রতি বাড়ি ফিরতেই ফের তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় এবং সেই পুরনো নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্য চলছে এবং প্রশাসনের নজরদারি যথেষ্ট নয়। সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি চোপড়ায় তৃণমূল নেতা জেসিপি কাণ্ড এবং শুক্রবার ডালখোলায় এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে নাবালকদের মারধরের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় জেলাজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এই নতুন ঘটনায় উত্তর দিনাজপুর জুড়ে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আদৌ নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনায় পুলিশ কী ব্যবস্থা নেয় এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা জেলা।
