ওঙ্কার ডেস্ক: দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিধি বাড়াতে এবং পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহারে নতুন দিশা আনতে ভারত এবার ছোট মডুলার রিঅ্যাক্টর নির্মাণে উদ্যোগী হয়েছে। এই প্রকল্পের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারকে। ভারতের তরফে এ ক্ষেত্রে রাশিয়ার সহযোগিতা নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও জোরালোভাবে আলোচনায় এসেছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা রোসাটম ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, ভারত চাইলে তারা প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে প্রস্তুত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট মডুলার রিঅ্যাক্টর সাধারণ বৃহৎ পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় অনেক বেশি সুবিধাজনক। এগুলি তুলনামূলকভাবে কম জায়গায় স্থাপন করা যায়, দ্রুত নির্মাণ করা সম্ভব এবং প্রয়োজনে অন্যত্র স্থানান্তরও করা যায়। বিদ্যুৎ সরবরাহের দিক থেকে অনুন্নত এলাকা বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে এগুলির ব্যবহার বিশেষ কার্যকর হতে পারে।
রোসাটমের দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রকল্প পরিচালক আলেকজান্ডার ভলগিন জানিয়েছেন, রাশিয়া ভারতের এই প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করতে আগ্রহী। তবে আনুষ্ঠানিক চুক্তি এখনও হয়নি। রাশিয়ার তৈরি এসএমআর সাধারণত ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম, যদিও আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ছোট রিঅ্যাক্টরের উৎপাদন ক্ষমতা ৩০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়াও, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি তাপ উৎপাদনেও এগুলির ব্যবহার সম্ভব।
এই প্রকল্প সফল হলে ভারতের জ্বালানি ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে। কারণ, পরিচ্ছন্ন ও নির্ভরযোগ্য শক্তির উৎস তৈরি করার পাশাপাশি দেশের নেট জিরো কার্বন নির্গমন লক্ষ্য অর্জনে এটি বড় ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভারতের একটি বড় অংশ কয়লা নির্ভর। কিন্তু পরিবেশগত দিক থেকে পারমাণবিক শক্তি অনেক বেশি টেকসই। তাই সরকারের পরিকল্পনায় এসএমআরকে আগামী দিনের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এই প্রকল্প ভারতের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনবে। তবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, তেজস্ক্রিয় পদার্থের সুরক্ষিত ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ মেনে চলা হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ। তবুও রাশিয়ার মতো অভিজ্ঞ সহযোগীর সহায়তা পেলে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা অনেক সহজ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
