ওঙ্কার ডেস্ক: পাকিস্তানের করাচি শহর রক্তাক্ত হয়ে উঠল স্বাধীনতা দিবসের রাতেই। উৎসবের উল্লাস ম্লান করে দিয়ে শহরের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ল গুলির শব্দ ও আতঙ্ক। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, সোমবার রাতভর চলা বেপরোয়া গুলিবর্ষণে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৮ জন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন এক প্রবীণ নাগরিক ও মাত্র আট বছরের এক শিশু। আহত হয়েছেন অন্তত ৬৪ জন। একই রাতে ডাকাতি ঠেকাতে গিয়ে আরও ৫ জন নিহত হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজিজাবাদ এলাকায় গুলিতে প্রাণ হারায় শিশুটি। করাঙ্গি এলাকায় নিহত হন স্টিফেন নামে এক ব্যক্তি। লিয়াকতাবাদ, করাঙ্গি, লিয়ারি, মেহমুদাবাদ, আখতার কলোনি, কিমারি, জ্যাকসন, বালদিয়া, ওরাঙ্গি টাউন এবং পাপোশ নগর সব জায়গায়ই স্বাধীনতা দিবসের রাতে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও শরিফাবাদ, নর্থ নজিমাবাদ, সুরজানি টাউন, জামান টাউন ও লান্ধিতেও একই অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানায়, ডাকাতির ঘটনাও ঘটেছে একাধিক জায়গায়। ডাকাতদের প্রতিরোধ করতে গিয়েই প্রাণ হারাতে হয়েছে ৫ জনকে।
আহতদের সিভিল হাসপাতাল, জিন্নাহ হাসপাতাল, আব্বাসি শাহিদ হাসপাতাল সহ গুলিস্তান-ই-জওহরের বেশ কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
পুলিশের দাবি, শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও অবৈধ অস্ত্রসহ ২০ জনেরও বেশি সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। করাচি পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, “আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। এই ধরনের বেপরোয়া গুলিবর্ষণ শহরের জন্য ভয়ঙ্কর উদাহরণ।”
করাচিতে উৎসবের রাতে গুলি ছোঁড়ার এই প্রাণঘাতী প্রবণতা নতুন নয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতেই শহরে শুধু এক মাসে গুলি চালানোর ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ৪২ জন, আহত হয়েছিলেন ২৩৩ জন। ২০২৪ সালে একই কারণে আহত হন অন্তত ৯৫ জন, আগের বছর সেই সংখ্যা ছিল ৮০। সামাজিক সংগঠনগুলির অভিযোগ, কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও নজরদারি না থাকায় প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবসের মতো উৎসবের দিনগুলিতে করাচি রণক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে।
