ওঙ্কার ডেস্ক: চলতি মাসের শুরুতেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাদের এক মসজিদে হামলা চালিয়েছিল জঙ্গী সংগঠন। সেই হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ৩১ জন পাকিস্তানী নাগরিক। মসজিদে হামলার দায়ও স্বীকার করেছিল তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান। এবার সেই হামলার বদলা নিল পাকস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। শনিবার গভীর রাতে আগফগান-পাক সীমান্তী সাতটি জঙ্গী ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। প্রসঙ্গত ইসলামাবাদ শুরু থেকে এই হামলায় ভারতকে দায়ী করে এসেছিল।
ইসলামাবাদ সরকারের দাবি, সীমান্তের ওপারে থাকা সাতটি গোপন আস্তানায় নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, ওই সব আস্তানা থেকে দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের অভ্যন্তরে নাশকতার ছক কষা হচ্ছিল এবং সাম্প্রতিক একাধিক জঙ্গি হামলার সঙ্গে ওই ঘাঁটিগুলির প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে।
পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ডে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিরাই সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে সম্প্রতি মসজিদে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ-সহ একাধিক রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর ইসলামাবাদ কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতেই এই অভিযানে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী যৌথভাবে অংশ নেয় বলে জানা গিয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, হামলায় বেশ কিছু জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে এবং বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জঙ্গি সংগঠনগুলির।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের শাসক গোষ্ঠী এই অভিযানের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, পাকিস্তানের এই সামরিক পদক্ষেপ সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং এতে সাধারণ নাগরিকদেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় নারী ও শিশুদের হতাহতের আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে আফগান প্রশাসনের তরফে। যদিও পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, অভিযান ছিল সম্পূর্ণভাবে জঙ্গি লক্ষ্যবস্তু নির্দিষ্ট করে।
দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত সন্ত্রাস ও নিরাপত্তা ইস্যুতে টানাপোড়েন চলছে। পাকিস্তান বারবার অভিযোগ করেছে, আফগান ভূখণ্ডকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করছে জঙ্গি সংগঠনগুলি। অন্যদিকে আফগানিস্তানও পাল্টা দাবি করেছে, সীমান্ত সমস্যাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে ইসলামাবাদ। সাম্প্রতিক এই সামরিক অভিযান সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিল বলে কূটনৈতিক মহলের একাংশের মত। আবার ইসলাবাদ দাবী করে এসেছিল আফগান কতৃক হওয়া এই সমস্ত হামলার নেপথ্যে রয়েছে ভারত। এই দাবির প্রেক্ষিতে কোন প্রমাণ আনতে পারেনি পাকিস্তান এবং ভারতও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এই ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক হামলা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপর এর প্রভাব ফেলতে পারে। এরপর পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
