ওঙ্কার ডেস্ক: ১০ অক্টোবর, শুক্রবার সকালে ফিলিপিন্স্ এর উপকূলবর্তীতে এলাকাতে প্রবল কম্পন অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে মান ছিল ৭.৫। ভুমিকম্পের পরবর্তী কালে সুনামির সতর্কবার্তা জারি হয়েছে এলাকা জুড়ে। এলাকার মানুষজনদের মধ্যে ইতিমধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পরেছে।
দক্ষিণ ফিলিপাইনের উপকূলে শুক্রবার সকালে প্রবল ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল সমগ্র অঞ্চল। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল প্রায় ৭.৪, পরে সেটি সংশোধন করে ৭.৫ ধরা হয়েছে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রবিন্দু ছিল দাভাও অরিয়েন্টাল প্রদেশের মানে শহর থেকে প্রায় ৬২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, ভূমি থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পের তীব্রতার কারণে মুহূর্তের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, ভেঙে পড়ে একাধিক ভবন, আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসে স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রথম দিকে ফিলিপাইনের আবহাওয়া ও আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থা উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে সুনামির সতর্কতা জারি করেছিল। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি প্রত্যাহার করা হয়, কারণ সমুদ্রের ঢেউ বিপজ্জনক উচ্চতায় পৌঁছায়নি। তবুও প্রশাসন বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে, কারণ শক্তিশালী আফটারশক বা পরবর্তী কম্পন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর রাষ্ট্রপতি ফার্দিনান্দ মারকোস জুনিয়র, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। উদ্ধারকারীরা ইতিমধ্যেই ধসে পড়া ভবন ও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে নেমেছে। এখনও পর্যন্ত প্রাণহানির কোনও সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশিত না হলেও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, কয়েকজন আহতকে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ফিলিপাইন এমনিতেই পৃথিবীর ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের অন্তর্গত, যেখানে প্রায়ই অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প ঘটে। ভূমিকম্পটি তারই এক ভয়াবহ উদাহরণ। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্যোগ প্রবণ এলাকায় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, ভূমিকম্প-সহনীয় স্থাপনা নির্মাণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাই ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতি রোধের একমাত্র পথ।
