বিপ্লব দাশ : বাংলা কোনো ভাষাই নয়, এমন অজ্ঞতা নিয়ে যে শাসকদল দেশের ভাষা বৈচিত্র এবং তার শ্রেষ্ঠ ভাষাকে অপমান করে, তাদেরই অধীন ডাক বিভাগ আবার রবীন্দ্রনাথ ছাড়া গতি পাচ্ছে না। দেখে অবাক এবং হাস্যকর লাগে এ কারণে- ডাকটিকিটের গরিমা ফেরাতে “ফর এভার লেটারস্” অর্থাৎ “চিরকালীন চিঠিতে” শীর্ষনামে কেন্দ্রের ডাক বিভাগ যে উদ্যোগ নিয়েছে তার প্রচারের বিষয়বস্তু কিন্তু “বৃষ্টি ও রবীন্দ্রনাথ”। এই নামেই একটি বিশেষ চিত্র পোস্টকার্ড সেট প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
আশ্চর্যের বিষয়, হাতে লেখা চিঠির অভ্যাস ফেরাতে রবীন্দ্রনাথকেই তুলে ধরতে হল ? রবীন্দ্রনাথ নিশ্চয়ই হিন্দিতে চিঠি লিখতেন না। তিনি যে ভাষায় লিখতেন তাকেই তো ভাষা মনে করছে না দেশের শাসকদল। কেন এই দ্বিচারিতা তা কেন্দ্রের ভাষাবিশারদরাই বলতে পারবেন। তবে এটা সত্য, কোনো অজ্ঞতা থেকে মহত্ব প্রতিষ্ঠা করা যায় না। এই কেন্দ্রই শান্তিনিকেতন থেকে রবীন্দ্র আদর্শ ও সংস্কৃতি উৎখাত করার কতই না চেষ্টা করেছে, করে চলেছে। তাদের কমান্ডার বিদ্যুৎ চক্রবর্তীকে নিশ্চয়ই ভুলে যাননি বাঙালিরা। এমন কি শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর কিছু সংস্কারের কাজ করতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথকেই ভুলে গিয়েছেন। সেখানে ফলাও করে দেখানো হয়েছে নরেন্দ্র মোদীর নাম। অথচ এই মোদী আর্জেন্টিনায় গিয়ে গুরুদেবেই বিগলিত। তাই বলতেই হয়, যে দল বাংলাকেই ভাষা বলে মনে করে না, তাদের শাসিত রাজ্যে বাঙালি দেখলেই হেনস্থা করা হয়, তাদের শাসন যন্ত্রে বাঙালি মনীষীর আরাধনা দেখলে মানসিক ভারসাম্যহীনতার কথা মনে পড়ে।
“বৃষ্টি ও রবীন্দ্রনাথ” শীর্ষক একটি বিশেষ চিত্র পোস্টকার্ড সেট প্রকাশ করার পিছনে কারণ হিসেবে মনে করছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিরন্তন শিল্প ও সাহিত্য দূর দূরান্তের মানুষকে একত্রিত করে শিল্পে ও ছন্দে। কবিতা, দর্শন, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে তাঁর অবদান নাকি আজও ভারতকে অনুপ্রাণিত করে ও পথ দেখায়। এই থিমভিত্তিক পোস্টকার্ড সেটের মাধ্যমে তারা চাইছে ব্যক্তিসত্ত্বার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গভীর সাংস্কৃতিক সংযোগ এবং বর্ষার রোমান্টিকতাকে তুলে ধরতে। এবং আরও আশ্চর্যের বিষয়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুবার্ষিকীতে, পশ্চিমবঙ্গ ডাক বিভাগ শুক্রবার “বৃষ্টি ও রবীন্দ্রনাথ” শীর্ষক আটটি পোস্টকার্ডের সেট প্রকাশ করতে চলেছে, যা কবিগুরুর বর্ষা বিষয়ক সাহিত্য এবৎ বিশ্বে তার গভীর প্রভাবকে স্মরণ করবে।
সত্য সেলুকাস, কী বিচিত্র এই দেশ !
