ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যের স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল ছবি উঠে এল UDISE+ রিপোর্টে। কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা Unified District Information System for Education Plus-এর পরিসংখ্যানে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলার ৪১৩৩টি স্কুলে বর্তমানে কোনও পড়ুয়া নেই। অথচ ওই স্কুলগুলিতে কর্মরত রয়েছেন ১৯ হাজার ৫০২ জন শিক্ষক। অর্থাৎ পড়ুয়াশূন্য স্কুলেও বিপুল সংখ্যক শিক্ষক রয়েছেন।
এই তালিকায় সরকারি ও বেসরকারি—দুই ধরনের স্কুলই রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, পড়ুয়া না থাকলে সেই স্কুল চালু রাখার প্রয়োজন কী? আবার শিক্ষকই বা সেখানে কীভাবে দায়িত্ব পালন করছেন? বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ অন্য কারণের কথা জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, বেশ কিছু বেসরকারি স্কুল UDISE+ পোর্টালে পড়ুয়াদের তথ্য সঠিক ভাবে আপলোড করেনি। কিন্তু শিক্ষকদের তথ্য আপলোড করা হয়েছে। তাই রিপোর্টে অনেক স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা শূন্য দেখাচ্ছে। সমস্যা খতিয়ে দেখে তা সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী। তবে পড়ুয়াশূন্য স্কুলের সংখ্যা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে।
রিপোর্টের আরও একটি তথ্য উদ্বেগ বাড়িয়েছে। রাজ্যের ৬৭৬৯টি স্কুলে মাত্র একজন করে শিক্ষক রয়েছেন। অথচ ওই স্কুলগুলিতে পড়াশোনা করছে প্রায় ২ লক্ষ ২৯ হাজার পড়ুয়া। অর্থাৎ বহু স্কুলে একজন শিক্ষকের উপরেই বিপুল সংখ্যক পড়ুয়ার দায়িত্ব রয়েছে। কোথাও কোথাও একজন শিক্ষককেই একাধিক শ্রেণির পড়ুয়াকে সামলাতে হচ্ছে। ফলে শিক্ষার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এই পরিস্থিতির জন্য আগের সরকারের আমলের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে দায়ী করেছেন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী। দীপক বর্মণের দাবি, দীর্ঘ সময় শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এখন গোটা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে। চলতি বছরের শেষের মধ্যে সমস্যা অনেকটাই মিটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।