নিজস্ব সংবাদদাতা : প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহাকে নিয়ে নতুন বিস্ফোরক দাবি করল ইডি। ষষ্ঠ সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে ইডি জানিয়েছে, চন্দ্রনাথ সিনহা সরাসরি যুক্ত ছিলেন নিয়োগ দুর্নীতির টাকার লেনদেনে। তদন্তে উঠে এসেছে, তাঁর মাধ্যমেই এই চক্রে প্রবাহিত হয়েছে প্রায় ১২ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা। মঙ্গলবার চন্দ্রনাথ সিংহার মামলার শুনানি পিছিয়ে গেল ইডির বিশেষ আদালতে। ফের শুনানি হবে ২০ সেপ্টেম্বর।
ইডির দাবি, নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত তিনজন—তাপস মণ্ডল, কুন্তল ঘোষ ও শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়—এই ত্রয়ীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল চন্দ্রনাথ সিনহার। শুধু তাই নয়, তাঁদের মাধ্যমেই একাধিক বেআইনি আর্থিক লেনদেনে অংশ নেন তিনি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জমি লেনদেন সংক্রান্ত দুর্নীতি। সূত্রের খবর, বীরভূমে জমি সংক্রান্ত নথিপত্র এবং সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য আদালতে জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, কুন্তল ঘোষের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ১৫৯ জন অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীর তালিকাও চন্দ্রনাথ সিনহার সূত্র ধরেই আসে। এই তালিকায় নাম থাকা প্রার্থীদের কাছ থেকে বিশাল অঙ্কের টাকা তোলা হয়েছিল। ইডির চার্জশিটে দাবি, চাকরির প্রতিশ্রুতির নামে প্রতিটি প্রার্থীর কাছ থেকে সর্বনিম্ন ৮ লক্ষ টাকা এবং সর্বাধিক ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল।
ইডির তদন্ত বলছে, এই পুরো চক্রের মাধ্যমে টাকার অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি টাকারও বেশি। এবং সেই অর্থ লেনদেনে চন্দ্রনাথ সিনহাই ছিলেন অন্যতম মধ্যস্থতাকারী। শুধু নামমাত্র নয়, বরং সক্রিয়ভাবে এই দুর্নীতির রুট ম্যানেজ করতেন বলেই দাবি তদন্তকারীদের।
চার্জশিট জমা পড়তেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল চাঞ্চল্য। বিরোধীরা দাবি করেছে, সরকারের মন্ত্রী পর্যায়েই যখন এত বড় দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে, তখন গোটা শিক্ষা নিয়োগ প্রক্রিয়াই প্রশ্নের মুখে। অন্যদিকে, শাসকদল সূত্রে অবশ্য এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
তদন্তকারীদের মতে, চার্জশিটে যুক্ত হওয়া এই নতুন প্রমাণের ভিত্তিতে শিগগিরই মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহাকে ডেকে পাঠানো হতে পারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। প্রয়োজনে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও খোলা রেখেছে ইডি।
