ওঙ্কার ডেস্ক: গত ১০ বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি মিলিয়ে ১২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ঋণ বাতিল করেছে এমনই বিস্ময়কর তথ্য জানাল কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষ থেকে ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি মোট ১২ লক্ষ ৮ হাজার ৮২৮ কোটি টাকার ঋণ বাতিল করেছে। যদিও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, ঋণ মকুব মানেই দায়মুক্তি নয়। অর্থাৎ, ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা বন্ধ হয়নি।
তথ্য অনুযায়ী, শুধু গত পাঁচ অর্থবর্ষেই মকুব হয়েছে প্রায় তিন লক্ষ কোটি টাকা ঋণ। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া একাই এই তালিকায় শীর্ষে তারা ৫ বছরে ১ লক্ষ ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ বাতিল করেছে। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষেও এখনও পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ঋণ মকুব হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, যদিও এই অঙ্ক নিয়ে কোনও সরকারি বিবৃতি নেই। তালিকায় পরবর্তী স্থানে রয়েছে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক, যার ৮১,২৪৩ কোটি মকুব করা হয়েছে, ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার ৮৫,৫৪০ কোটি টাকা, ব্যাঙ্ক অফ বরোডা ক্ষেত্রে ৭০,০৬১ কোটি টাকা এবং ক্যানারা ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে ঋণ মকুবের অঙ্ক ২০২১-২২ সালে ৮,৪২২ কোটি থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ১৪,৩৫০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্র এই পরিসংখ্যান পেশ করেছে। আর এই বিপুল ঋণ মকুবের তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই ফের শুরু হয়েছে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত। এই বিপুল ঋণ মকুবের ঘটনা ঘিরে ফের সরব হয়েছেন বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ, “সাধারণ মানুষের প্রকল্পের টাকা আটকে রেখে কর্পোরেট বন্ধুদের স্বার্থ রক্ষা করছে মোদী সরকার”। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অভিযোগ, ১০০ দিনের কাজের মজুরি, আবাস যোজনার টাকা সহ কেন্দ্রের একাধিক বকেয়া ফান্ড রাজ্যের প্রাপ্য থাকলেও তা মঞ্জুর করছে না কেন্দ্র, অথচ একের পর এক বিশাল অঙ্কের ঋণ মাফ হচ্ছে কর্পোরেট ঋণগ্রহীতাদের।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই ঋণ মকুব নিয়ে কেন্দ্রের যুক্তি থাকলেও, বিরোধীরা যে এটিকে বড় রাজনৈতিক ইস্যু করে তুলবে, তা স্পষ্ট। বিশেষত রাজ্যগুলোর প্রাপ্য অর্থ বন্ধ রাখা ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির এই বিপুল ঋণ বাতিল দুইয়ের মধ্যে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার অভিযোগ তুলে কেন্দ্রকে কোণঠাসা করতে চাইছে বিরোধী শিবির।
