নিজস্ব সংবাদদাতা : রবিবার কলকাতার সল্ট লেক এলাকার একটি স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয় থেকে উদ্ধার হল প্রচুর আধার কার্ড। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে সল্টলেকের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে।
আধার কার্ড উদ্ধারের খবর পেয়ে স্থানীয় থানা থেকে একটি বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে আসে। এত বিপুল সংখ্যক আধার কার্ড কীভাবে তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে পৌঁছাল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন অজুহাতে বহু মানুষের কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল যাতে তারা ভোট দিতে না পারে। ঘটনাটি রবিবার সকালে বিধাননগরের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসন্তী দেবী কলোনিতে ঘটে। স্থানীয়দের কথায়, এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন এবং সেখানে সুন্দরভাবে সাজানো একাধিক আধার কার্ড দেখতে পান তাঁরা। স্থানীয়দের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয় থেকে অন্তত ৬০ থেকে ৭০টি আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এই উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ও পরিষেবা পাওয়ার সুবিধা করে দেওয়ার নামে একাধিকবার আধার কার্ড সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে, অভিযোগ অনুযায়ী, কার্ডগুলো পরে আর ফেরত দেওয়া হয়নি। এছাড়াও অভিযোগ উঠছে যে, গেল নির্বাচনে কিছু লোককে ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখতে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের সদস্যরা এই বিষয়ে জড়িত ছিলেন।
উল্লেখ্য, শুধু সল্ট লেক এলাকা থেকেই নয়, বীরভূম জেলার নানুর থেকেও একই ধরনের কার্ড উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। জানা গেছে, একজন বুথ লেভেল অফিসারের বাসভবন সংলগ্ন একটি মাঠ থেকে বিপুল সংখ্যক আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কার্ডগুলো উদ্ধার করে। জানা গেছে, যে মাঠ থেকে আধার কার্ডগুলো উদ্ধার করা হয়েছিল, তার পাশেই ওই বিএলও-র বাড়ি। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ ইতোমধ্যে বিএলও-কে গ্রেপ্তার করেছে। এত বিপুল সংখ্যক আধার কার্ড কীভাবে ওই স্থানে পৌঁছাল এবং কেন সেগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফেরত দেওয়া হয়নি, তা নিশ্চিত করতে একটি বিস্তারিত তদন্ত চলছে।