ওঙ্কার ডেস্ক: রাশিয়া থেকে তেল কেনার অপরাধে ভারতীয় পন্যের উপর জরিমানা সহ ৫০% শুল্ক লাগিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সেই শুল্ক হুমকিকে তোয়াক্কা না করে রাশিয়া থেকে তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে ভারত। শুধু জ্বালানি নয়, সামরিক ক্ষেত্রেও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করতে চলেছে নয়া দিল্লি।রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে পারেন দেশের কেন্দ্রীয় সরকার।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার ‘ফেডারেল সার্ভিস ফর মিলিটারি-টেকনিক্যাল কোঅপারেশন’-এর প্রধান দিমিত্রি শুগায়েভ জানিয়েছেন, এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও কেনার বিষয়ে মস্কোর সঙ্গে সক্রিয় আলোচনা চলছে নয়াদিল্লির। ২০২৬ এবং ২০২৭ সালে ভারতকে আরও দুই ইউনিট এস-৪০০ সরবরাহ করতে পারে রাশিয়া।
২০২২ এ ইউক্রেনের উপর হামলা চালায় রাশিয়া। এই যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার উপর নানা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আমেরিকা-সহ পশ্চিমি বিশ্ব। তা সত্ত্বেও ভারত মস্কোর অন্যতম বড় ক্রেতা হয়ে উঠেছে। আমেরিকার চাপ উপেক্ষা করে নয়াদিল্লি জানিয়ে দিয়েছে, রাশিয়া থেকে তেল কেনা আপাতত বন্ধ হচ্ছে না। সদ্যসমাপ্ত চিনের এসসিও সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একান্ত আলাপও দুই দেশের ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত দিয়েছে।
নানা আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে ভারত আরও ছাড় পেতে চলেছে। ব্যারেল প্রতি দাম সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে তিন থেকে চার মার্কিন ডলার পর্যন্ত কমতে পারে। জুলাইয়ে রাশিয়া থেকে তেল কেনার সময় ভারতীয় ক্রেতারা পেয়েছিলেন ব্যারেল প্রতি প্রায় এক ডলার ছাড়। অগস্টে সেই ছাড় বেড়ে দাঁড়ায় আড়াই ডলার। এবার তা আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এতে খুশি নয় ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপিয়েছে। অভিযোগ, ভারত সস্তায় রুশ তেল কিনে তা পরিশোধিত করে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করে লাভ করছে, এবং সেই অর্থ ইউক্রেন যুদ্ধ চালাতে কাজে লাগাচ্ছে রাশিয়া। হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা পিটার নাভারো প্রকাশ্যে ভারতের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছেন।
মার্কিন শুল্ক হুমকির জেরেও নয়াদিল্লি-মস্কো সম্পর্কের টানাপোড়েন হয়নি। বরং বিগত কয়েক বছরে রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি বেড়েছে ব্যাপক হারে। ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের আগে যেখানে ভারত রুশ তেলের মাত্র ০.২ শতাংশ আমদানি করত, এখন সেই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারত এই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে বলেই মত বিশেষজ্ঞ মহলের।
