ওঙ্কার ডেস্ক: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি রাশিয়া থেকে জ্বালানি কিনতে পারে, তবে ভারতও একই সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে দ্বিমুখী নীতি মেনে চলা উচিত নয়। পুতিনের মতে, ভারত এখন একটি শক্তিশালী, স্বনির্ভর এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রভাবশালী রাষ্ট্র। সেই অবস্থানে দাঁড়িয়ে তারা কোন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করবে তা ভারতের স্বাধীন সিদ্ধান্ত।
সম্প্রতি দিল্লিতে সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়ে পুতিন জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখনও রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানি সহ বিভিন্ন সম্পদ ক্রয় করছে। তিনি প্রশ্ন করেন, “যদি তারা রাশিয়ার জ্বালানি কেনে, তাহলে ভারত কেন সেই সুযোগ পাবে না?” তাঁর মন্তব্য স্পষ্টতই যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্য নীতি, নিষেধাজ্ঞা এবং শুল্ক চাপের প্রতি জবাব হিসেবে উঠে এসেছে।
পুতিন বলেন, রাশিয়া-ভারত সম্পর্ক শুধু কৌশলগত নয়, দীর্ঘদিনের বিশ্বাসের ভিত্তিতে তৈরি। উভয় দেশের মধ্যে শক্তিশালী অর্থনৈতিক যোগাযোগ, প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব, পরমাণু শক্তি সহযোগিতা এবং বাণিজ্য সব ক্ষেত্রেই স্থায়ী সমঝোতা রয়েছে। ভারত যখন আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও রাশিয়ার জ্বালানি কেনা অব্যাহত রেখেছে, সেটাকে তিনি ভারতের স্বাধীন নীতিগত অবস্থান বলে মনে করেন। তাঁর দাবি, এই সম্পর্ক কোনও দেশের বিরুদ্ধে নয়; বরং উভয় দেশের উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা লক্ষ করে তৈরি।
এদিকে মার্কিন প্রশাসন বারবার ভারতকে সতর্ক করছে যে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা হলে তার পরিণতি হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, রাশিয়ার জ্বালানি কেনা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং নিরাপত্তা কাঠামো দুর্বল করতে পারে। তবে পুতিন বলেন, “যে দেশ নিজেই আমাদের থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করছে, তার অধিকার নেই অন্যদের ক্ষেত্রে তা নিষিদ্ধ করার।” তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে রাশিয়া এই বিষয়ে বৈদেশিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।
পুতিন আরও জানান, রাশিয়া ভারতীয় বাজারকে উচ্চ সম্ভাবনাময় বলেই মনে করে। ভবিষ্যতে শুধু জ্বালানি নয়, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি, খাদ্য রসদ এবং অবকাঠামো উন্নয়নেও দু’দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত এখন এমন অবস্থানে নেই যে বিদেশি চাপ তাকে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংক্রান্ত ভূ-কৌশলগত প্রতিযোগিতার সময়ে পুতিনের মন্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ফলে রাশিয়ার তেলের বাজারে চাপ তৈরি হলেও ভারত বড় ক্রেতা হয়ে রাশিয়ার অর্থনীতিকে সহায়তা করেছে। এই প্রেক্ষাপটেই পুতিন ভারতের অবস্থানকে “স্বাধীন ও বাস্তববাদী” বলে ঘোষণা করেছেন।
সামগ্রিকভাবে পুতিনের মন্তব্য শুধু ভারতের জ্বালানি কেনার নীতিকেই সমর্থন করে না, বরং বিশ্ব রাজনৈতিক মঞ্চে দ্বিমুখী নীতির বিরুদ্ধে সরাসরি প্রশ্ন তোলে। তাঁর বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, রাশিয়া-ভারত সম্পর্ক আগামী দিনে আরও বিস্তৃত ও সক্রিয় হবে।
