ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অশান্ত পরিবেশের কারনে একপ্রকার বন্ধ হয়েছে হরমুজ প্রনালী। সেই কারনে বিশ্ব তৈল পরিবহন বাজারে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা। ভারতের তেলের সরবরাহ যাতে সুষ্ট থাকে সেই কারণে রাশিয়া থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখতে চায় নয়া দিল্লি। অন্যদিকে মার্কিন মুলুক রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতকে ৩০ দিনের ছাড়পত্র দেওয়ার ঘোষণা করেছে। অপরদিকে রাশিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তেল সংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করতে নারাজ তারা।
ভারতের কাছে ঠিক কত পরিমাণ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করছে রাশিয়া, সেই তথ্য আর প্রকাশ করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে মস্কো। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন দেশের চাপের কথা উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ক্রেমলিন। রাশিয়ার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেল রপ্তানির সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান প্রকাশ করলে তা কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের জানান, রাশিয়া ভারতের কাছে কত পরিমাণ তেল পাঠাচ্ছে সেই বিষয়ে কোনও সংখ্যাগত তথ্য প্রকাশ করা হবে না। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এমন অনেক শক্তি রয়েছে যারা রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। তাই এই ধরনের সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া তাদের তেল রপ্তানির বিষয়টি আরও সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে। রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছেন, বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তার মধ্যেও এশিয়ার বড় ক্রেতা দেশগুলির কাছে তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ভারত এবং চীন বর্তমানে রাশিয়ার অন্যতম প্রধান ক্রেতা দেশ। পশ্চিমা দেশগুলির নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পর থেকেই রাশিয়ার তেলের একটি বড় অংশ এশিয়ার বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ফলে রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যের কাঠামো অনেকটাই বদলে গেছে। ইউরোপের পরিবর্তে এখন এশিয়ার দেশগুলির দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে মস্কো। ভারতও এই পরিস্থিতিতে তুলনামূলক কম দামে রাশিয়ার তেল কিনে নিজেদের জ্বালানি চাহিদা মেটাচ্ছে। কিন্তু ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনা চক্ষুশূল হয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। দ্বিতীয়বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ট্রাম্প দাবী করে বসেন ভারতকে বিক্রি করা তেলের টাকা রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে কাজে লাগাছে। তাই ভারতের উপর শুল্ক হিসাবে ২৫% এবং জরিমানা হিসাবে আরও ২৫% মোট ৫০% শুল্ক আরোপ করে। এ বিষয়ে নয়া দিল্লি বরাবর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছে দেশের স্বার্থকে আগে রেখেই সিধান্ত নেওয়া হবে।
