
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা : শনিবার সকালে সল্টলেক সেক্টর ফাইভের ওয়েবেল মোড়ে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সাঁতরাগাছি-বারাসত রুটের একটি যাত্রীবোঝাই বাস ধাক্কা মেরে পিষে দিল রজনী মাহাতো নামে এক তরুণী তথ্যপ্রযুক্তিকর্মীকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনি রাস্তার একপাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পিছন থেকে বাসটি এসে তাঁকে ধাক্কা মারে। গতির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চাকা চলে যায় তাঁর মাথার ওপর দিয়ে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি।
এই ঘটনা শুধু একটি প্রাণের অপচয় নয়। বরং আরও একবার প্রকাশ্যে এল কলকাতার ট্রাফিক ব্যবস্থার চূড়ান্ত অব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক উদাসীনতা। প্রতিদিন হাজার হাজার কর্মী যাতায়াত করেন সেক্টর ফাইভে। অথচ, এই করিডোরে পর্যাপ্ত গণপরিবহণের অভাব। সময়মতো বাস না পাওয়া, অতিরিক্ত ভিড়, এবং যানবাহনের বেপরোয়া গতি, সব মিলিয়ে মৃত্যু যেন এখানে সময়ের অপেক্ষা মাত্র। সরকার ও ট্রাফিক প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন উঠছে, কেন এখনও সেক্টর ফাইভের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্পোরেট অঞ্চলে নির্দিষ্ট ফুটপাত এবং পথচারী জন্য সঠিক সুরক্ষিত নয় ! প্রশ্ন উঠছে, যেখানে দুর্ঘটনা প্রায়শই ঘটে থাকে, সেখানে কেন নিয়মিত ট্রাফিক নজরদারি নেই রাস্তার মোড়গুলিতে ? আর কবে নাগরিকদের নিরাপদে যাতায়াত করার অধিকার সুনিশ্চিত হবে ?
এই ঘটনা শুধু একটি পথ দূর্ঘটনা নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। ইতিমধ্যেই পুলিশ, বাসচালক এবং কন্ডাক্টরকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, এই দায় কেবল তাঁদের একার ? নাকি একটি গোটা অব্যবস্থার শিকার হলেন রজনী মাহাতোর মতো আরও একজন সাধারণ মানুষ ? ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি এবং তার বাস্তবায়ন ছাড়া এই শহর আরও কত রজনী মাহাতোর প্রাণ নেবে, তার হিসেব রাখা কঠিন ।