ওঙ্কার ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে স্কুলপ্রধানকে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা পঞ্চায়েত সদস্য ত্রিদিব বারুইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিলন কান্তি পালকে স্কুলের মধ্যেই অপমানজনকভাবে হেনস্থা ও শারীরিকভাবে আক্রমণ করেছেন। ঘটনায় রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়েছে রাজ্য শাসক দল।
ঘটনা ঘটে বীরেন্দ্র বিদ্যানিকেতন স্কুলে। অভিযোগ, ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা সফরের জন্য টাকা তোলা হয়েছিল। সেই অর্থ নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও ব্যবস্থাপনা কমিটির মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। স্কুলপ্রধান মিলন কান্তি পাল দাবি করেন, তিনি সমস্ত হিসেবপত্র যথাযথভাবে জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই অর্থের ব্যবহার নিয়ে ত্রিদিব বারুই অভিযোগ তুলতে শুরু করেন। কথা কাটাকাটি চরমে উঠতেই তিনি আচমকাই প্রধান শিক্ষককে ধাক্কা মেরে অফিস কক্ষ থেকে বের করে আনেন এবং হাত তুলতে থাকেন। ঘটনায় স্কুলপ্রধানের গলায় ও হাতে আঘাত লাগে বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা প্রধান শিক্ষককে ধাক্কা দিচ্ছেন এবং তাঁকে বাইরে টেনে বের করার চেষ্টা করছেন। ভিডিওটি ভাইরাল হতেই শিক্ষকমহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
আহত মিলন কান্তি পাল জানিয়েছেন, ‘‘বিদ্যালয়ের উন্নতির স্বার্থে আমি সবসময় নিরপেক্ষভাবে কাজ করেছি। কিন্তু রাজনৈতিক চাপে পড়ে আজ আমাকে স্কুলে প্রকাশ্যে মারধর করা হল। শিক্ষক সমাজের জন্য এটি লজ্জাজনক ঘটনা।’’ অন্যদিকে অভিযুক্ত ত্রিদিব বারুই দাবি করেছেন, তিনি কোনও হামলা করেননি। তাঁর বক্তব্য, ‘‘প্রধান শিক্ষক ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে টাকা তুলেছিলেন, কিন্তু ব্যবস্থাপনা কমিটিকে জানাননি। আমি শুধু সেটি প্রশ্ন করতেই উনি অপ্রীতিকর ভাষা ব্যবহার করেন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।’’
এই ঘটনার পর বিরোধী দলগুলি শাসক দলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্যের শিক্ষাঙ্গনে ক্রমশ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বাড়ছে, যার ফলে শিক্ষকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব দাবি করেছে, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এভাবে শিক্ষকদের উপর হামলা চালাচ্ছে। তৃণমূলের স্থানীয় সাংসদ মন্তু রাম পাখিরা অবশ্য জানিয়েছেন, ‘‘ঘটনা দলের নজরে এসেছে। তদন্তে প্রমাণিত হলে দলের পক্ষ থেকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
