নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: একের পর এক রেল দুর্ঘটনায় উঠছে রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন। শালিমার স্টেশনে ঢোকার মুখে লাইনচ্যুত হল একটি লোকাল ট্রেন। বুধবার ডাউন সাঁতরাগাছি–শালিমার লোকাল ট্রেনটি সাঁতরাগাছি থেকে শালিমার স্টেশনে প্রবেশ করার সময় তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মে একটি কামরা লাইনচ্যুত হয়ে যায়। ঘটনার জেরে সাময়িকভাবে স্তব্ধ হয়ে যায় ওই প্ল্যাটফর্মের ট্রেন চলাচল।
দক্ষিণ পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক ওম প্রকাশ চরণ জানিয়েছেন, “ট্রেনটিতে কোনও যাত্রী ছিল না। ফলে হতাহতের কোনও ঘটনা ঘটেনি।” তিনি আরও জানান, লাইনচ্যুত কামরাটি উদ্ধারের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে রেলের ইঞ্জিনিয়ার ও প্রযুক্তিবিদদের একটি দল পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, কীভাবে আচমকা এই লাইনচ্যুতের ঘটনা ঘটল, তা জানতে ট্র্যাক, পয়েন্ট মেশিন ও চাকার অবস্থান খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা লাইনের ত্রুটির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
ঘটনার জেরে তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মে আপাতত ট্রেন পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্য প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কিছু ট্রেন ঘোরানো হলেও যাত্রী পরিষেবায় আংশিক প্রভাব পড়ে। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রেলের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে। প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক ট্রেন লাইনচ্যুত ও দুর্ঘটনার ঘটনা সামনে এসেছে। কয়েক মাস আগেই ওড়িশায় একটি মালগাড়ি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটে, যার জেরে দীর্ঘ সময় ব্যাহত হয় রেল চলাচল। তারও আগে উত্তরবঙ্গে যাত্রীবাহী ট্রেনের একটি কামরা লাইনচ্যুত হওয়ায় অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গিয়েছিল। দক্ষিণবঙ্গেও সাম্প্রতিক অতীতে পণ্যবাহী ট্রেনের চাকা লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রেল বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পুরনো লাইনের উপর বাড়তি চাপ, দ্রুতগতির ট্রেন চলাচল এবং পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব—এই তিনটি কারণ একসঙ্গে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, “নিয়মিত ট্র্যাক পরীক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার না করলে ভবিষ্যতে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”
যদিও রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং প্রতিটি ঘটনার পর আলাদা করে তদন্ত করা হচ্ছে। শালিমারের ঘটনাতেও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে, যাত্রী না থাকায় বড় বিপদ এড়ানো গেলেও শালিমারের এই লাইনচ্যুতের ঘটনা ফের রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। বারবার এমন ঘটনা ঘটতে থাকলে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক বাড়বে বলেই মত পর্যবেক্ষকদের। এখন নজর রেলের তদন্ত রিপোর্টের দিকে—এই লাইনচ্যুত নিছক যান্ত্রিক ত্রুটি, না কি এর পিছনে রয়েছে বড় কোনও অব্যবস্থাপনা, সেই উত্তরই দেবে আগামী দিনের রেল নথি।
