কুশল চক্রবর্তী : ভারতীয় শেয়ার বাজারে এটা নতুন নয়। কখনও গীতাঞ্জলী ডায়মন্ড, কখনও ফাইয়ারস্টোন ডায়মন্ড, কখনও সত্যাম কম্পুটার মত আরও অনেক কোম্পানির শেয়ার ধরাশায়ী করেছে অজস্র শেয়ার মার্কেটে লগ্নি করা নিরিহ ভারতবাসীকে। আর তার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে বারবারই উঠে এসেছে নানা প্রতারণার ছক। এবার সেই তালিকায় উঠে এল জেনসল ইঞ্জিরিয়ারিং-এর নাম।
২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে যে কোম্পানির শেয়ারের দাম ছিল ৮৪২ টাকা তা নেমে এল ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ১১৬ টাকায়। কি এমন হল কোম্পানির ? কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরোল। বিপদে পড়তে আরম্ভ করল দুই রাষ্ট্রয়ও সংস্থা পাওয়ার ফিনান্স কর্পোরেশান আর ইন্দিয়ান রিনিউএব্যাল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি। কারণ এদের থেকেই ধার নিয়ে কোম্পানির কাজ চালাচ্ছিল এই কোম্পানির দুই প্রমোটার অমল সিং জাজ্ঞি আর পুনিত সিং জাজ্ঞি। এরা এই দুই সংস্থা থেকে ঋণ নিয়েছিল এই বলে যে তারা এই জেনসল কোম্পানির কিছু টাকা সোলার এনার্জি তৈরির জন্য ব্যায় করবে আর কিছুটা তারা বিদ্যুৎ চালিত গাড়ি কিনে তাদের ভাঁড়ায় গাড়ি চালানো কোম্পানি ব্লুস্মার্ট এ লাগাবে।
২০১৯ সালে পাবলিকের কাছে শেয়ার বিক্রি করা কোম্পানি ২০২৩ সাল অবধি ঠিকঠাক ছিল, তারপরেই আরম্ভ হল গণ্ডগোল। নানারকমের প্রশ্নের উদ্রেক করা কাজ। অনুসন্ধানে দেখা গেল তারা সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। যেমন ঋণ শোধ না দিয়ে ঋণ শোধের মিথ্যা চিঠি বানিয়েছে, ব্যবসার টাকা ফ্ল্যাট কেনার জন্য সরিয়ে নিয়েছে, যে পরিমান ইলেকট্রিক গাড়ি কিনবার কথা বলেছে, তা কেনেনি। যে দুই সংস্থা তাদের ধার দিয়েছিল যথাক্রমে, পিএফসি আর আইআরডিই্, তারা তাদের দেওয়া ৯৭৭ কোটি টাকা ঋণ উদ্ধারে বিপদে পড়েছে। এমনকি রাষ্ট্রের শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থা সেবি বলছে এই কোম্পানির ২৬২ কোটি টাকার সঠিক হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। এখন বিভিন্ন কোম্পানিদের অর্থনৈতিক সাস্থ নিয়ন্ত্রণ করা সংস্থা মার্চ মাসে এই কোম্পানির উপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করলেও বা সেবি তাদের প্রমরটারদের প্রতি কিছু শস্তিমুলক ব্যবস্থা নিলেও তা কি দেরী হয়ে গেল না! কী করে একটা কোম্পানি এত সব মিথ্যা তথ্য দিয়েও দিনের পর দিন তাদের বাবাসা চালিয়ে গেল সেটাও তো ভাববার বিষয় ! সর্ষের মধ্যেই ভূত নেই তো ?
