স্পোর্টস রিপোর্টার, ওঙ্কার বাংলা: ভারতকে দাঁড় করিয়ে হারানোই নয়, ঘরের মাঠে লজ্জায় ফেলল প্রোটিয়ারা। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ভারতের ব্যাটিং লাইন আপ। চাপ নিতে ব্যর্থ গোটা দল। দক্ষিণ আফ্রিকার ৭ উইকেটে ১৮৭ রানের জবাবে ১১১ রানে গুটিয়ে যায় টিম ইন্ডিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকা জেতে ৭৬ রানে।
টি২০ বিশ্বকাপে রানের দিক থেকে ভারতের সবচেয়ে বড় হার এটা। এতদিন বড় হার ছিল ২০১০ বিশ্বকাপে ব্রিজটাউনে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪৯ রানে। ২০২২ টি২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর এই প্রথম বহুজাতিক টুর্নামেন্টে হারল ভারত। মাঝে ২২টি ম্যাচ খেলে জিতেছিল ২১টিতে, একটি ছিল বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত। প্রোটিয়াদের রান তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় ভারত। মারক্রামের করা বলে রায়ান রিকেলটনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন অন-ফর্ম ব্যাটার ঈষাণ কিষাণ। পরের ওভারের প্রথম বলেই তিলক বর্মাও ফিরে যান। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগে ফেরেন অভিষেক শর্মাও।
ঈষাণ শূন্য, তিলক ১ ও অভিষেক ১৫ রানে আউট হন। ওয়াশিংটন সুন্দরকে নিয়ে দেখে-শুনে খেলার চেষ্টা চালান অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। কিন্তু রক্ষণাত্মক খেলে উইকেটের পতন আটকানোর ক্ষমতা হয়নি। ২২ বলে ১৮ করে ফেরেন সূর্য। ওয়াশিংটন সুন্দর করেন ১১ বলে ১১। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে প্রতিরোধের চেষ্টা চালান শিবম দুবে ও হার্দিক পান্ডিয়া। কিন্তু সেটা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। কেশব মহারাজের বলে ১৮ রানে ফেরেন হার্দিক। ৩৭ বলে ৪২ রান করেন দুবে। শেষদিকে অর্শদীপ ১ রান করেন। আর রানের দেখা পাননি বরুণ চক্রবর্তী, রিঙ্কু সিং ও জসপ্রীত বুমরাহ।
আহমেদাবাদে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রোটিয়া অধিনায়ক এইডেন মার্করাম। কিন্তু ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি প্রোটিয়ারা। জসপ্রীত বুমরাহর করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ড্রেসিংরুমে পথ ধরেন ওপেনার কুইন্টন ডি কক। পরের দুই ওভারে আউট হন এইডেন মারক্রাম ও রায়ান রিকেলটন। আউট হওয়ার আগে ডি কক ৬, মারক্রাম ৪ ও রিকেলটন ৭ রান করেন। মাত্র ২০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বেশ চাপেই পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। চতুর্থ উইকেট জুটিতে চাপ সামলে নেন ডেভিড মিলার ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। ক্রমেই ভারতীয় বোলারদের ওপর চড়াও হতে থাকেন তারা। মাত্র ৫০ বলে দুজন মিলে গড়েন ৯৭ রানের জুটি। তাতেই ১৮৭ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। মাত্র ২৯ বলে তিনটি করে চার ও ছয়ের মাধ্যমে ৪৫ রান করে আউট হন ব্রেভিস। মিলারের ইনিংস থামে ৬৩ রানে। ৩৫ বলে খেলা তার এই ইনিংসটি সাতটি চার ও তিনটি ছয়ে সাজানো। খেলা শেষে সূর্য জানিয়ে দিলেন, ব্যাটারদের ব্যর্থতার জন্য হারতে হয়েছে। বোলারেরা নিজেদের কাজ করেছেন। সূর্য বলেন, “আমরা শুরুতে ভাল বল করেছি। আবার শেষ দিকেও ভাল বল করেছি। মাঝে ৭ থেকে ১৫ ওভারে ওরা খেলার দখল নিয়েছিল। তবে সব মিলিয়ে আমাদের বোলিং ভাল হয়েছে। কিন্তু ব্যাটিং ভাল করতে পারিনি। সেই কারণেই হারতে হল।”
১৮৮ রান তাড়া করতে নেমে পাওয়ার প্লে-র মধ্যে ৩ উইকেট হারায় ভারত। সেখান থেকে আর ফিরতে পারেনি তারা। সূর্যও সেই পাওয়ার প্লে-র কথাই জানালেন। তিনি বললেন, “১৮৫ রানের বেশি তাড়া করতে নেমে পাওয়ার প্লে-তে ম্যাচ জেতা যায় না। কিন্তু পাওয়ার প্লে-তে ম্যাচ হারা যায়। আমাদের সেটাই হয়েছে। পাওয়ার প্লে-তে খুব বেশি উইকেট হারিয়েছি। পরেও জুটি হয়নি। সেই কারণেই হারতে হয়েছে।”সেমিফাইনালে ওঠার আশা ছাড়েননি সূর্য। তিনি জানেন, পরের দুই ম্যাচ জিতলে অনেকটাই সুযোগ থাকবে। এই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে সেখানে নামতে চান তিনি। সূর্য বলেন, “এই হার থেকে শিক্ষা নেব। এখনও দুটো ম্যাচ বাকি। সেখানে ভাল খেলতে হবে। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং তিন ক্ষেত্রেই উন্নতি করতে হবে। আশা করি সেটা আমরা পারব।”
