ওঙ্কার ডেস্ক: বয়ঃসন্ধিকালে অনেকে প্রেমে পড়েন। শুধু তাই নয় আবেগের বশে পড়ে বিবাহ বন্ধনেও আবদ্ধ হন। এই পরিস্থিতিতে নাবালিকার পরিবারের তরফে অনেক সময় পকসো আইনে মামলা দায়ের করেন। কিন্তু এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ জানাল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালত জোর দিয়েছে প্রেম এবং অপরাধের মধ্যে পার্থক্য করার বিষয়ে।
১৬ বছরের একটি মুসলিম মেয়ের সঙ্গে ৩০ বছরের এক ব্যক্তির বিয়েকে স্বীকৃতি দিয়েছিল পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট। শুধু তাই নয় ওই দম্পতি ও তাঁদের সন্তানের সুরক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। হাইকোর্ট জানিয়েছিল, মুসলিম পার্সোনাল আইন অনুসারে কোনও মুসলিম মেয়ে তার বয়ঃসন্ধিকালে পদার্পণ করলে অথবা ১৫ বছর বয়স পার করলে আইনত তার পছন্দের সঙ্গীকে বিয়ে করতে পারে। এর সঙ্গে প্রটেকশন অফ চিলড্রেন ফ্রম সেক্সুয়াল অফেন্সেস বা পকসো আইনের সম্পর্ক নেই। হাইকোর্ট স্বামী জাভেদ ও স্ত্রী আশিয়ানাকে তাই জীবন ও স্বাধীনতার সুরক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। ২০২২ সালের পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের একটি নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিল শিশু অধিকার সুরক্ষায় জাতীয় কমিশন না এনসিপিসিআর। এদিন আদালত সেই মামলা খারিজ করে দেওয়ার পাশাপাশি এনসিপিসিআরকে ভর্ৎসনা করে।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিভি নাগারত্ন এবং বিচারপতি আর মাধবনের বেঞ্চ এনসিপিসিআরকে তীব্র ভর্ৎসনা করার পাশাপাশি জানায়, মেয়েটি তার স্বামী-সন্তানের সঙ্গে সংসার করছে যখন তখন আপনাদের আপত্তি কেন? এনসিপিসিআরের তরফে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাট্টি এদিন আদালতে যুক্তি দেন, একটি ১৫ বছরের নাবালিকা কী ভাবে পার্সোনাল ল-য়ের অধীনে বিয়ে করতে পারে? যেখানে দেশে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর বলে স্বীকৃত। এই যুক্তি মানতে অস্বীকার করে সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের তরফে জানানো হয়েছে, মামলাটি কেবলমাত্র জীবন ও স্বাধীনতার অধিকার রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এই প্রশ্নের জবাব প্রয়োজন হলে সঠিক পদ্ধতিতে মামলা করতে হবে। পাশাপাশি আদালত জানায় পকসো আইন অপরাধ সংক্রান্ত বিষয়ের জন্য।
