ওঙ্কার ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পর বহু তৃণমূলের কর্মী সমর্থক ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ জোড়াফুল শিবিরের। এমনকি বিষয়টি নিয়ে বিধানসভায় সরব হন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও। তাঁর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানালেন, ভোট পরবর্তী হিংসায় যদি কোনও তৃণমূলের কর্মী সমর্থক ঘরছাড়া হয়ে থাকেন তাহলে তাঁকে সসম্মানে ঘরে ফেরানো হবে। তবে সেই সঙ্গে তিনি শর্তও বেঁধে দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যদি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসার ঘটনায় জড়িত থাকেন তাহলে তাঁকে ঘরে ফেরানোর বদলে গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। শুক্রবার বিধানসভায় এ কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী।
শুক্রবার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপির অত্যাচারে বহু তৃণমূলের নেতা-কর্মী ঘরছাড়া। তার প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ভোট পরবর্তী হিংসায় কেউ ঘরছাড়া বলে আমার জানা নেই। তবে যদি আপনার কথা মেনে নিই, সেক্ষেত্রে আপনি ডিজিপির কাছে নামের তালিকা পেশ করুন যে কারা ঘর ছাড়া।’ তাঁর আরও সংযোজন, তালিকায় থাকা কেউ যদি একুশের ভোট পরবর্তী হিংসায় অভিযুক্ত হন। তাহলে তাঁকে ঘরে ফেরানো হবে না। গ্রেফতার করা হবে।
উল্লেখ্য, বঙ্গে নির্বাচন আর রক্তপাত সমার্থক হয়ে উঠেছিল অতীতে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর একাধিক বিজেপি কর্মী সমর্থক আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অভিযোগের তীর ছিল তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে। তবে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন দু দফায় সম্পন্ন হয়েছে কোনও ধ্যরণের খুনোখুনি ছাড়া । বাংলায় নির্বিঘ্নে বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন করতে পেরেছে নির্বাচন কমিশন। তবে ভোটের পর একাধিক জায়গায় তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের উপর আক্রমণ হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। সেই প্রসঙ্গে এবার বিরোধীদের আশ্বস্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী।