ওঙ্কার ডেস্ক: চলতি বছরের জুলাই মাসে নদিয়া জেলার কালীগঞ্জের উপনির্বাচনের পর জয়ী দলের উত্তেজনায় বোমাবাজিতে প্রান হারিয়েছিল বছর নয়ের তামান্না। মেয়ের বিচারের আশায় হাইকোর্টের দারস্থ হয়েছিল ছোট্ট তামান্নার পরিবার। কিন্তু মেয়ের এই অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না তাঁর মা সাবিনা খাতুন। দীর্ঘদিন ধরেই অবসাদে ভুগছিলেন তামান্নার মা। মঙ্গলবার রাতে তিনি একাধিক ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে পরিবারের তৎপরতায় দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে এবারের মত প্রাণে বেঁচে যান তিনি। তামান্নার মা এখন শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন কালীগঞ্জে উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিজয় মিছিলে বোমা বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় নয় বছরের তামান্না খাতুনের। ওই ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। তদন্তে একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হলেও মামলার অগ্রগতি ও নিরাপত্তা নিয়ে পরিবারের উদ্বেগ কাটেনি। তামান্নার মৃত্যুর পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তাঁর মা। ন্যায়বিচারের দাবিতে একাধিকবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়া, আদালতের দরজায় কড়া নাড়া এবং অভিযুক্তদের জামিন সংক্রান্ত খবরে তাঁর মানসিক চাপ আরও বেড়েছিল বলে পরিবারের দাবি।
পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে বাড়িতেই একাধিক ঘুমের ওষুধ সেবন করেন সাবিনা খাতুন। কিছুক্ষণ পর বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা জানান, সময়মতো চিকিৎসা শুরু হওয়ায় আপাতত তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, ঘটনার পর থেকে পরিবারটি চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে, চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে সাবিনা খাতুনের শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসা চলবে বলেও হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে।
